মালয়েশিয়া থেকে ফেরত পাঠানো প্রায় দেড় হাজার মিয়ানমারের নাগরিককে বহনকারী তিনটি নৌযান দেশটির জলসীমায় পৌঁছেছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে তাদের বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দেশটির জলসীমায় প্রবেশ করে তিনটি নৌযান। এসব নৌযানে মোট ১ হাজার ৪৭৬ জন মিয়ানমারের নাগরিক রয়েছেন।
ফেরত পাঠানো ব্যক্তিরা মালয়েশিয়ার অভিবাসন হেফাজত কেন্দ্রে আটক ছিলেন। অবৈধভাবে দেশটিতে অবস্থান ও অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ভোগের পর তাদের দেশে পাঠানো হচ্ছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি শরণার্থীদের নিরাপদ ও টেকসইভাবে দেশে ফেরার অনুকূল নয়। তবে মালয়েশিয়া বলছে, প্রত্যাবাসনের পুরো প্রক্রিয়াই স্বেচ্ছামূলক।
জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক কেলি ই. কারি বৃহস্পতিবার এ প্রত্যাবাসন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মালয়েশিয়াকে প্রক্রিয়াটি বন্ধ করে জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই মিয়ানমারে সংঘাত চলছে। সামরিক জান্তা ও বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর লড়াইয়ে দেশটির পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরার পথে নৌবাহিনীর সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রত্যাবাসনকারীদের চিকিৎসা, খাবার ও পোশাকের ব্যবস্থা করেছে। ইয়াঙ্গুন বন্দরে তাদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। পরে নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে এবং পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর কেউ রয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। সর্বোচ্চ ৫ হাজার মানুষকে দেশে ফেরানোর একটি পরিকল্পনার আওতায় এটিই প্রথম প্রত্যাবাসন।
মালয়েশিয়ায় শরণার্থীদের, বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে বিরূপ মনোভাব বাড়তে থাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি অভিবাসনবিষয়ক অভিযান জোরদার করেছে। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা দেশটি ছেড়ে পালিয়ে যায়। ওই অভিযানের ঘটনায় গণহত্যার অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে তদন্ত চলছে।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


