ভারত-পাকিস্তানে আবারও সংঘাতের আশঙ্কা

জম্মু কাশ্মীরে হামলা

ভারত-পাকিস্তানে আবারও সংঘাতের আশঙ্কা

ভারতশাসিত কাশ্মীরের পাহাড়ঘেরা পহেলগাম দীর্ঘদিন ধরেই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আল্পাইন তৃণভূমি এবং পাইন বনের কারণে ‘মিনি সুইজারল্যান্ড’খ্যাত এই এলাকা সম্প্রতি আরো জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এরই মধ্যে এ অঞ্চলকে জঙ্গি-সহিংসতামুক্ত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর থেকে এখানে পর্যকটদের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পায়। কিন্তু সবকিছুই যেন থেমে গেল মঙ্গলবারের নৃশংস হামলার পর। অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা সেখানকার পর্যটকদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালালে প্রাণ হারান অন্তত ২৬ জন। আহত হন আরো ১৭ জন।

২০১৯ সালের পর থেকে হিমালয় অঞ্চলে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ সশস্ত্র হামলা বলে মনে করা হচ্ছে। যার দায় বর্তায় ভারত-পাকিস্তান উভয় দেশের ওপরই। সে সময় সন্ত্রাসী হামলায় ৪০ ভারতীয় আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত হওয়ার পর ভারত পাকিস্তানে বিমান হামলা চালিয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

তবে এবারের ঘটনার দায় স্বীকার করেছে ‘রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ নামে একটি গোষ্ঠী। তাদের দাবি, এ অঞ্চলে ৮৫ হাজার বহিরাগত বসতি স্থাপন করেছে, যার প্রতিবাদে ওই সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে তারা। তবে ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ভারত সরকারের বিরোধিতাকারী সন্ত্রাসীরাই এ ঘটনার নেপথ্যে কাজ করেছে। দেশটির সাবেক সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এর পেছনে রয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী।

এদিকে রাজধানী নয়াদিল্লিতে এক ভাষণে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, যারা কাশ্মীর অঞ্চলে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার পরিকল্পনা এবং তা পরিচালনা করেছে, তাদের দ্রুত জবাব দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, হামলার পর থেকেই পহেলগাম ছাড়ার চেষ্টা করছেন অনেক পর্যটক। শ্রীনগর বিমানবন্দরের ট্যুর অপারেটররা জানিয়েছেন, দেশি পর্যটকরা কাশ্মীর ছাড়ার জন্য তাড়াহুড়ো করছেন। অনেক গাড়ি এখন বিমানবন্দরের দিকে আসছে। তবে বিবিসির এক সংবাদদাতা জানিয়েছেন, দিল্লি থেকে কাশ্মীরে আসা ফ্লাইটটি বেশ ফাঁকা ছিল। এ হামলার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তান। এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হামলার শিকার ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে বলেছেন, ‘পর্যটকদের প্রাণহানির ঘটনায় তারা খুব উদ্বিগ্ন।’ আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তিনি।

অন্যদিকে, বন্দুকধারীরা হামলা চালানোর সময় নারী-পুরুষদের আলাদা করে শুধুমাত্র পুরুষদের লক্ষ করে গুলি চালিয়েছিল- এমনটাই জানিয়েছেন হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া এক পর্যটক। প্রত্যক্ষদর্শী এক নারী জানিয়েছেন, হামলাকারীরা পুরুষদের লক্ষ করে গুলি চালিয়েছে। এতে তার স্বামীও মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

এ হামলার ঘটনার জেরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পহেলগামের দোকানপাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কাশ্মীরের ব্যবসায়ীরা এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং এ অঞ্চলের রাজধানী শ্রীনগরের প্রাণকেন্দ্র লাল চক এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল কালো পতাকা ও প্ল্যাকার্ড।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন