মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের চার বিচারকের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এটাকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে এ ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের যুদ্ধাপরাধের মামলা চালুর প্রতিশোধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর রয়টার্স ও নিউেইয়র্ক টাইমসের।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওবিবৃতিতে বলেছেন, উগান্ডার সোলোমি বালুঙ্গি বোসা, পেরুর লুজ ডেল কারমেন ইবানেজ কারাঞ্জা, বেনিনের রেইন অ্যাডিলেড সোফি আলাপিনি গানসো এবং স্লোভেনিয়ার বেটি হোহলারকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
‘আইসিসির বিচারক হিসেবে এই চার ব্যক্তি আমেরিকা বা আমাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরাইলকে টার্গেট করে অবৈধ এবং ভিত্তিহীন কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে জড়িত। আইসিসির রাজনীতিকীকরণ করা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এবং আমাদের মিত্র দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে তদন্ত, অভিযোগ গঠন এবং বিচার করার জন্য মিথ্যা দাবি তোলা হয়েছে’ বলেছেন রুবিও।
আইসিসি এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি একটি আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করার প্রচেষ্টা। আইসিসি ‘অকল্পনীয় নৃশংসতার’ শিকার লাখ লাখ ভুক্তভোগীর আশা এবং ন্যায়বিচারের স্থান।
বিচারক বোসা এবং ইবানেজ কারাঞ্জা ২০১৮ সাল থেকে আইসিসির বেঞ্চে রয়েছেন। ২০২০ সালে তারা আপিল চেম্বারের একটি সিদ্ধান্তে যুক্ত ছিলেন। এতে আইসিসির প্রসিকিউটরকে আফগানিস্তানে আমেরিকার সৈন্যদের যুদ্ধাপরাধের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়।
২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি সদস্য দেশগুলোতে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার করার আন্তর্জাতিক এখতিয়ার রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া এবং ইসরাইলের সদস্য নয়।
আইসিসির বিচারকরা গাজা সংঘাতের সময় যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত নভেম্বরে নেতানিয়াহু, প্রাক্তন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা প্রধান ইয়োভ গ্যালান্ট এবং হামাস নেতা ইব্রাহিম আল-মাসরির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
এদিকে ইউক্রেন থেকে শিশুদের বিতাড়নের অভিযোগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধেও আইসিসি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

