সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে ইরানের সেনাপ্রধান

দুদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক শত্রুদের আশাহত করবে

দুদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক শত্রুদের আশাহত করবে

ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাকেরি বলেছেন, ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক শত্রুদের আশাহত করবে এবং মিত্রদের জন্য আনন্দ বয়ে আনবে। বৃহস্পতিবার তেহরানে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান আল-সউদকে বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি।

বৈঠকে জেনারেল বাকেরি দুদেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। আঞ্চলিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তায় তেহরান ও রিয়াদ একত্রে কাজ করতে পারে বলে মতপ্রকাশ করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থেই ইরানের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয় সৌদি আরব।

তিনি বলেন, রিয়াদ ও তেহরানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দুদেশ ও আঞ্চলিক ক্ষেত্রে উত্তম ফল নিয়ে আসবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় সফরে তেহরান যান সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান। বর্তমান সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের ছেলে শাহজাদা খালিদ বিন সালমানের এ সফরের মাধ্যমে ২৮ বছর পর রাজ পরিবারের কোনো সদস্য তেহরান সফর করলেন।

সফরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনি ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

আয়াতুল্লাহ খামেনির সঙ্গে বৈঠকে বাদশাহ সালমানের একটি চিঠি তার হাতে তুলে দেন শাহজাদা খালিদ বিন সালমান।

বৈঠকে তিনি বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সব ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে প্রসারের লক্ষ্য নিয়ে আমি তেহরান এসেছি। আমরা আশা করি দুপক্ষের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে জোরদার সম্পর্ক তৈরি করবে।’

আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক দুদেশের জন্য উপকারী হবে। অন্যের ওপর নির্ভর হওয়ার চেয়ে আঞ্চলিক ভাইদের পরস্পরকে সহযোগিতাই উত্তম হবে।’

তিনি বলেন, দুদেশের সম্পর্ককে নষ্ট করার মতো অনেক বৈরী শক্তি রয়েছে। তবে এ বৈরিতা কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

বৈঠকের পর এক্সে এক পোস্টে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, দুদেশের অভিন্ন স্বার্থ ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছে।

পরে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। বৈঠকে তিনি বলেন, ‘সৌদি আরব ও ইরান এ অঞ্চলের দুই প্রধান স্তম্ভ। দুদেশের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক ইসলামি বিশ্বের জন্য একতা ও সমন্বয়ের কার্যকর মডেল হিসেবে উপস্থাপিত হতে পারে। বেইজিং চুক্তি দুদেশের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্কের সূচনা করেছে।’

ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘নিজেদের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে কোনো প্রকার বহির্শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই ইরান ও সৌদি আরব একত্রে এ অঞ্চলের অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারে। আমরা আশা করি দুদেশের মধ্যে যে সদিচ্ছা তৈরি হয়েছে তা ইসলামি বিশ্বের স্বার্থকে জোরদার করবে এবং শত্রুদের হস্তক্ষেপে নিরুৎসাহিত করবে।’

২০১৬ সালে সৌদি আরবে এক শিয়া আলেমকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার জেরে রিয়াদ-তেহরানের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়। ২০২৩ সালের মার্চে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরায় স্থাপনে সম্মত হয় দুদেশ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন