টানা তিন বছর ধরে ইউক্রেনে আগ্রাসন চালাচ্ছে রাশিয়া। রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে শুরু থেকেই ইউক্রেনকে আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে আমেরিকা। দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তার প্রশাসন শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনের পাশে থাকার প্রতিশ্রিুতি দিয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বদলে যায় অনেক কিছু। পরিবর্তন এসেছে ইউক্রেন নীতিতেও। সহায়তা তো দূরের কথা, এ পর্যন্ত ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়া বাবদ অর্থ ফেরত চেয়েছেন ট্রাম্প। আর এই অর্থের বদলে দেশটির বিরল খনিজসম্পদের ৫০ শতাংশ মালিকানা দাবি করেছেন তিনি।
ট্রাম্পের প্রস্তাবে শেষ পর্যন্ত সম্মতও হয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, খনিজসম্পদ নিলেও ওই চুক্তির অংশ হিসেবে ইউক্রেনকে উল্লেখযোগ্য নিরাপত্তার নিশ্চিয়তা দেবে না আমেরিকা। বুধবার এ কথা জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমেরিকা খুব বেশি নিরাপত্তা দেবে না ইউক্রেনকে। এটি ইউরোপকেই করতে হবে।
খনিজ চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট শুক্রবার ওয়াশিংটন সফরে আসছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প বলেছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ওয়াশিংটন কিয়েভকে দেওয়া শত শত বিলিয়ন ডলার পুনরুদ্ধার করতে পারবে, যা এ দেশের নাগরিকদের করের অর্থ। গত কয়েকদিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প-জেলেনস্কির মধ্যে আলোচনা-পাল্টা আলোচনা হয়েছে। তবে জেলেনস্কির দাবি ছিল, খনিজসম্পদের বিনিময়ে তার দেশের নিরাপত্তা দিতে হবে। আর তার নিশ্চিয়তা আমেরিকাকেই দিতে হবে।
তবে চুক্তির সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। জেলেনস্কি আগে বলেছিলেন, ইউক্রেন এবং আমেরিকার মধ্যে একটি প্রাথমিক অর্থনৈতিক চুক্তি প্রস্তুত হলেও ওই চুক্তিতে ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা কিয়েভ রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে।
জেলেনস্কি কিয়েভে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই সপ্তাহের শেষের দিকে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার ফলাফলের ওপরই নির্ভর করবে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি। তিনি বলেন, এই চুক্তি একটি বড় ধরনের সাফল্য হতে পারে কিংবা অনেকটাই নীরবেই সই হতে পারে। আর এর সবকিছুই নির্ভর করবে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার পর।
এদিকে আমেরিকার স্থানীয় সময় বুধবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠেকে জেলেনিস্কর ওয়াশিংটন সফরের বিষয়টি ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, খনিজসম্পদ ও অন্যান্য বিষয়ের জন্য একটি বড় চুক্তি হবে এটি।
এদিকে ন্যাটো সদস্যপদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় রয়েছে ইউক্রেন। কিন্তু এবার সে আশাও অপূর্ণ থেকে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেনকে এবার ন্যাটোর সদস্যপদ পাওয়ার আশা ত্যাগ করতে হবে। কারণ খনিজসম্পদ চুক্তি হলে দেশটির ‘স্বয়ংক্রিয়’ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে আমেরিকা। এই সদস্যপদের ইস্যুই যুদ্ধের প্রধান কারণগুলোর একটি বলেও জানান ট্রাম্প। ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতি খুব বেশি দূরে নয়। দুই দেশের মধ্যে দ্রুতই একটি চুক্তি হবে, যাতে মানুষ হত্যা বন্ধ হয়। এমনটাই বলেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে ইউক্রেনে যেকোনো যুদ্ধবিরতি কার্যকরে আমেরিকাকে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করার অনুরোধ জানাতে বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। আর একমাত্র এর মাধ্যমেই আবারও ইউক্রেনে আক্রমণ করা থেকে পুতিনকে বিরত রাখতে পারবে বলে মনে করছেন তিনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

