পাঁচ লাখ অভিবাসীর বৈধতা বাতিল ট্রাম্পের

পাঁচ লাখ অভিবাসীর বৈধতা বাতিল ট্রাম্পের

আমেরিকায় বসবাসরত বিশ্বের চার দেশের পাঁচ লাখেরও বেশি অভিবাসীর ‘অস্থায়ী বৈধতা’ বাতিল করতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, কিউবা, হাইতি, নিকারাগুয়া এবং ভেনেজুয়েলার পাঁচ লাখ ৩০ হাজার অভিবাসীর ‘অস্থায়ী আইনি মর্যাদা’ প্রত্যাহার করা হবে। মূলত ১৮ শতকের একটি আইনের আওতায় বিতাড়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই আইনটি শুধু যুদ্ধের সময়ে ব্যবহৃত হতো। শুক্রবার ফেডারেল রেজিস্ট্রারের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এটি হতে যাচ্ছে ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী সর্বশেষ কঠোর পদক্ষেপ। এতে আরো বলা হয়, প্যারোল নামে পরিচিত অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অধীনে অভিবাসীদের বসবাসের অনুমতি এবং ওয়ার্ক পারমিট বাতিল হবে আগামী ২৪ এপ্রিল। ২৫ মার্চ আদেশ জারির ৩০ দিন পর কার্যকর হবে এটি। আর এর মধ্য দিয়ে অভিবাসন নিয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের করা সব আইন বাতিল হবে। এসব অভিবাসী বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া ‘সিএইচএনভি’ নামক একটি প্রোগ্রামের আওতায় আমেরিকায় আসা বৈধভাবে থাকা ও কাজের সুযোগ পেয়েছিল।

দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে অভিবাসীদের এ দেশ থেকে বিতাড়নের জন্য কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ফলে বাতিল করেন বাইডেনের ‘সিএইচএন প্রোগ্রাম’। এর মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার অন্তর্ভুক্ত। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এ কর্মসূচির আইনি মেয়াদ গত ২০ জানুয়ারি অভিবাসনসংক্রান্ত তার নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে শেষ হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ অভিবাসীদের মধ্যে কয়েকজন এরই মধ্যে আমেরিকায় থাকার জন্য অন্য কোনো ভিসা বা আইনি অবস্থান অর্জন করেছেন কি না- তা এখনো স্পষ্ট নয়।

৬ মার্চ ট্রাম্প বলেছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষের সময়ে এ দেশে পালিয়ে আসা প্রায় দুই লাখ ৪০ হাজার ইউক্রেনের বাসিন্দার প্যারোল মর্যাদা বাতিল করা হবে কি না- সে বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। তবে এপ্রিলের মধ্যেই ইউক্রেনের নাগরিকদের জন্য মর্যাদা বাতিল করার পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প, এমন তথ্যও উঠে এসেছে। এদিকে ফেব্রুয়ারির শুরুতে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল সিবিএস নিউজ। সেখানে বলা হয়, ট্রাম্প প্রশাসন সিএইচএনভি প্রক্রিয়ার অধীনে এ দেশে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের বৈধ মর্যাদা বাতিল করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

২০২২ সালে মূলত ভেনেজুয়েলার নাগরিকদের আমেরিকায় প্রবেশ সুবিধা দিতে সিএইচিএনভি প্রোগ্রাম চালু করেছিলেন বাইডেন। ২০২৩ সালে এটি কিউবা ও নিকারাগুয়ার বাসিন্দাদের জন্যও চালু করা হয়। ফলে এসব অভিবাসী তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আমেরিকায় বসবাসের অনুমতি ও তাদের দুই বছরের জন্য অস্থায়ী অভিবাসন মর্যাদা বা প্যারোল প্রদান করা হয়েছিল। এই প্রোগ্রাম চালুর পেছনে বাইডেনের যুক্তি ছিল, এর মাধ্যমে ইউএস-মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে অবৈধ শরণার্থী প্রবেশ কমাবে।

এদিকে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট বলেছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বৈধতা বাতিল হওয়া অভিবাসীদের দ্রুত আমেরিকা ত্যাগ করতে হবে, অন্যথায় তাদের গ্রেপ্তার এবং বহিষ্কার করবে প্রশাসন। তাই নিজ উদ্যোগে আমেরিকা ছাড়ার জন্য নিবন্ধন করতে নতুনভাবে ব্যবহৃত ‘সিবিপি হোম স্মার্টফোন অ্যাপ’ ব্যবহারের অনুরোধ করা হয়েছে।

ক্যারিবীয় দেশ হাইতির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য দেশটির দুই লাখ ১৩ হাজার বাসিন্দাকে আমেরিকায় প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। এ প্রোগ্রামের আওতায় এক লাখ ২০ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি ভেনেজুয়েলার নাগরিক, এক লাখ ১০ হাজার ৯০০ কিউবার নাগরিক এবং নিকারাগুয়া থেকে ৯৩ হাজারেও বেশি অভিবাসী এ দেশে এসেছিল।

জানুয়ারিতে ক্ষমতা নেওয়ার পর বেশ কিছু অভিবাসী কর্মসূচি বাতিল করেছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে দুই বছর বা তার কম সময়ের জন্য আমেরিকায় অবস্থানকারী নির্দিষ্ট অভিবাসীদের দ্রুত বহিষ্কার করার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। তবে এ নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন