গত বছর নানান ঘটনায় বিশ্বজুড়ে সর্বোচ্চসংখ্যক সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন, যা গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। বুধবার সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস’ সিপিজে এ তথ্য জানিয়েছে। সংগঠনটির বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে ১৮টি দেশের কমপক্ষে ১২৪ সাংবাদিক নিহত হন, যার মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ বা ৭০ শতাংশ সাংবাদিক হত্যার জন্য সরাসরি দায়ী ইসরাইলি বাহিনী। এই সংখ্যা ৮৫, যার মধ্যে ৮২ জনই ফিলিস্তিনি।
সিপিজের অভিযোগ, ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হাতে শুধু যে ৮৫ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন তা নয়, এসব হত্যার ঘটনার তদন্তে বাধা দেওয়া, সাংবাদিকদের ওপর দোষ চাপানো এবং হত্যাকাণ্ডের জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহিও করেনি তারা।
এদিকে সিপিজের প্রতিবেদনের বিষয়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনী আইডিএফ বলেছে, তারা কখনই ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো সাংবাদিককে হত্যা করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। তাদের দাবি, সাংবাদিক হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তাদের পর্যাপ্ত তথ্য সরবরাহ করা হয়নি। ফলে তারা তা পরীক্ষা করতে পারেনি। কিন্তু গাজায় সাংবাদিক ও বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি কমাতে তারা কার্যকরভাবে সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নিয়েছে।
২০২৪ সালে নিহত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীর সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভয়ংকরভাবে বেড়েছে। ২০২৩ সালে ১০২ জন এবং ২০২২ সালে ৬৯ জন নিহত হন। ২০০৭ সালে ১১৩ জন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছিলেন, যার প্রায় অর্ধেকই মারা গিয়েছিলেন ইরাক যুদ্ধের কারণে। গত বছর সাংবাদিকদের হত্যার ক্ষেত্রে সুদান এবং পাকিস্তানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চসংখ্যক ছিল। সেখানে ছয়জন করে সংবাদকর্মী নিহত হন।
সংগঠনটির প্রধান জোডি গিন্সবার্গ বলেছেন, সিপিজের ইতিহাসে বর্তমান সময়কে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূণ। তিনি আরো বলেন, গাজায় চলমান যুদ্ধ সাংবাদিকদের ওপর নজিরবিহীন প্রভাব ফেলেছে এবং যুদ্ধের ময়দানে সাংবাদিকদের সুরক্ষার জন্য বৈশ্বিক মানদণ্ডের চরম অবনতি ঘটিয়েছে। তবে শুধুমাত্র যুদ্ধক্ষেত্রেই সাংবাদিকরা ঝুঁকিতে থাকেন তেমনটি নয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাংবাদিকদের ‘টার্গেট’ করে হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। গত বছর হাইতি, মেক্সিকো, মিয়ানমান, সুদান এবং অন্যান্য স্থানে কাজের কারণে কমপক্ষে ২৪ জন সাংবাদিককে ‘টার্গেট’ করে হত্যা করা হয়েছে। সংগঠনটি বলছে, ইসরাইল কর্তৃক ‘টার্গেট’ হত্যার কমপক্ষে ১০টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। কমিটি জানিয়েছে, তারা আরো ২০টি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে, যেখানে ইসরাইল পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের বিশেষভাবে ‘টার্গেট’ করে থাকতে পারে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরাইলে হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জন ইসরাইলিকে হত্যা করেছিল, যাদের বেশিরভাগই ছিল বেসামরিক নাগরিক। জিম্মি করেছিল ২৫১ জনকে।
এদিকে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, ইসরাইলের বর্বর হামলায় গাজায় ৪৮ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক।
সিপিজে আরো জানিয়েছে, ২০২৫ সালেও থেমে নেই সাংবাদিক হত্যার ঘটনা। এখন পর্যন্ত বিশ্বে কমপক্ষে ছয়জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

