সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে পেন্টাগন

সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে পেন্টাগন

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ফেডারেল খরচ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই অংশ হিসেবে এবার ৫ হাজার ৪০০ কর্মীকে ছাঁটাই করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে আমেরিকার প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন।

শুক্রবার দেওয়া ওই ঘোষণায় বলা হয়, আগামী সপ্তাহ থেকেই কার্যকর হবে এ সিদ্ধান্ত। প্রতিরক্ষা বিভাগের ৫০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের একটি অংশ এটি। তবে অনেকেই আশা করেছিলেন শেষ পর্যন্ত হয়তো এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন ট্রাম্প। তবে ড্যারিন সেলনিক নামে শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পেন্টাগন নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখবে এবং ৯৫ হাজার বেসামরিক কর্মীর মধ্যে ৫ থেকে ৮ শতাংশ ছাঁটাই করবে। অর্থাৎ এই ছাঁটাই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

বিজ্ঞাপন

ট্রাম্পের এমন আগ্রাহী উদ্যোগের জেরে এরই মধ্যে বিপারলিকান আইনপ্রণেতাদের কেউ কেউ ক্ষুব্ধ ভোটারদের তোপের মুখে পড়েছেন। এ ঘটনার ঠিক একদিন পরই পেন্টাগন এমন ঘোষণা দেয়।

ট্রাম্পের মিত্র বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্কের নেতৃত্বে দ্রুতগতিতে চলছে এই ছাঁটাই কার্যক্রম। ইতোমধ্যে ২০ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী আমেরিকার সহায়তা কার্যক্রমও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বিভিন্ন দেশে বন্ধ হয়ে গেছে ইউএসএআইডি’র কার্যক্রম।

ট্রাম্পের কর্মী ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আইনি লড়াইও শুরু হয়েছে। তবে স্বাধীন নজরদারি সংস্থা হিসেবে পরিচিত অফিস অব স্পেশাল কাউন্সেলের প্রধানকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

এদিকে শুক্রবার ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) তার ওয়াশিংটনের সদর দপ্তর থেকে ১ হাজার ৫০০ কর্মীকে দেশের বিভিন্ন অফিসে বদলি করার নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি হিসাবে এফবিআইয়ের প্রতি চার কর্মীর একজন ওয়াশিংটনে কাজ করছেন।

তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী ঘটনাও ঘটছে। বরখাস্তকৃত পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং বার্ড ফ্লু নিয়ে কাজ করা কর্মীদের অনেককেই ফিরিয়ে আনছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এদিকে শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে রদবদল আনছেন ট্রাম্প। এরই অংশ হিসেবে বরখাস্ত করা হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান সিকিউ ব্রাউনকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আরো পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তাকে বদলি করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তার এমন সিদ্ধান্তের জেরে পেন্টাগনে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। জেনারেল ব্রাউন দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় কৃষ্ণাঙ্গ কর্মকর্তা, যিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন