রুশ পণ্যবাহী একটি জাহাজ ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর রহস্যজনকভাবে একাধিক বিস্ফোরণের শিকার হয়ে ডুবে যায়। স্পেনের উপকূল থেকে প্রায় ৬০ মাইল দূরে ডুবে যাওয়া জাহাজটি খুব সম্ভবত উত্তর কোরিয়ার সাবমেরিনের জন্য দুটি পারমাণবিক চুল্লি বহন করছিল বলে দাবি করা হয়েছে সিএনএনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।
উরসা মেজর নামের জাহাজটি ডুবে যাওয়ার পর থেকেই ঘটনাটি রহস্যেঘেরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি রাশিয়াকে তার প্রধান মিত্র উত্তর কোরিয়ায় উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তি পাঠানো থেকে বিরত রাখতে পশ্চিমা সেনাবাহিনীর সরাসরি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত হতে পারে।
কিম জং উন ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে সহায়তার জন্য সৈন্য পাঠানোর মাত্র দুই মাস পর জাহাজটি যাত্রা শুরু করেছিল।
জাহাজডুবিতে বেঁচে যাওয়া ১৪ রুশ নাগরিককে স্পেনের কার্তাহেনা বন্দরনগরীতে আনা হয়। সেখানে পুলিশ ও তদন্তকারীরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। স্প্যানিশ সরকারের বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, রুশ ক্যাপ্টেন নিজের নিরাপত্তার ভয়ে জাহাজের মালামাল সম্পর্কে কথা বলতে অনিচ্ছুক ছিলেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাজের ম্যানিফেস্টে প্রাথমিকভাবে তালিকাভুক্ত ‘ম্যানহোল কভার’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করতে ক্যাপ্টেনের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়। পরে তিনি স্বীকার করেন, সেগুলো ছিল সাবমেরিনে ব্যবহৃত দুটি পারমাণবিক চুল্লির যন্ত্রাংশ।
জাহাজডুবির চারদিন পর এটির মালিক প্রতিষ্ঠান ওবোরোনলজিস্টিকস ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলা’ বলে বর্ণনা করে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, জাহাজটিতে তিনটি বিস্ফোরণ ঘটেছিল।
জাহাজটির খোলে ৫০ সেন্টিমিটার বাই ৫০ সেন্টিমিটার আকারের একটি ছিদ্র পাওয়া যায়। ক্ষতিগ্রস্ত ধাতব অংশ ভেতরের দিকে বাঁকানো ছিল। কোম্পানির বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘জাহাজটির ডেক শ্র্যাপনেলে ছেয়ে গিয়েছিল।’
সাবেক বাণিজ্যিক নৌ ক্যাপ্টেন রোজাসও সংশয় প্রকাশ করে সিএনএনকে বলেন, নৌ দুর্ঘটনায় জাহাজের ব্ল্যাকবক্সগুলো সাধারণত একটি লোকেটরসহ ভেসে ওঠে। কিন্তু আমরা জানি না যে উরসা মেজরেরটি স্পেনের কাছে নাকি রুশের কাছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজটির ৫০ সেমি বাই ৫০ সেমি ছিদ্রটি সম্ভবত একটি ব্যারাকুডা সুপারক্যাভিটেটিং টর্পেডোর দ্বারা তৈরি হয়েছিল। ধারণা করা হয়, কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটোর কয়েকটি মিত্র দেশ এবং রাশিয়া এবং ইরানের কাছেই এ ধরনের উচ্চগতির টর্পেডো রয়েছে।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

