যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবানন-ইসরাইলের পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ

আমার দেশ অনলাইন

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবানন-ইসরাইলের পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত

লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও সেখানে থেমে নেই অস্থিরতা। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ তুলেছে দুই পক্ষই।

এছাড়া ইরানের রাজধানী তেহরানেও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে একদিকে যেমন কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে, অন্যদিকে পুরোপুরি থেমে নেই সংঘাতও।

লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানো হলেও এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন।

তার মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যকার সংঘাত পুরোপুরি থামবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড্যানন স্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘লেবানন সরকারের হিজবুল্লাহর ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।’

হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে নতুন করে রকেট হামলার অভিযোগও তুলেছে ইসরাইল।

ড্যানন অভিযোগ করেন, ‘হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি ব্যাহত করতে রকেট হামলা চালাচ্ছে। আর ইসরাইলকে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা জবাব দিতে হচ্ছে। আমরা যখনই কোনো হুমকি দেখছি, তখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতের বৈঠকের পর চলমান ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি আরো তিন সপ্তাহের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়।

এই নতুন চুক্তি প্রসঙ্গে ড্যানি ড্যানন বলেন, ‘এটি শতভাগ নিশ্চিত নয়। আমি আশা করি, লেবাননের সেনাবাহিনী বাস্তবে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও বলবৎ করতে সক্ষম হবে।’

এদিকে লেবানন থেকে ছোড়া বেশ কয়েকটি প্রজেক্টাইল বা রকেট প্রতিহত করার দাবি করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। এ ঘটনার জেরে ইসরাইলের শতুলা এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়।

টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ইসরাইলকে লক্ষ্য করে রকেট হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে হিজবুল্লাহও।

এর আগে ওভাল অফিস থেকে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এ সময় তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং উভয় দেশের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন।

যুদ্ধবিরতীর মেয়াদ নতুন করে বাড়ানোর পর উপস্থিত সবাই এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রশংসাও করেন।

কিন্তু এই চুক্তি হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ তুলেছে দুই পক্ষই।

বিবিসির সংবাদদাতা টম বেইটম্যান বলছেন, ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী, যার কেন্দ্রে রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে লেবাননের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তি হিসেবে টিকে থাকা ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার দাবি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল মনে করে, গত কয়েক বছরে ইরানের দুর্বল হয়ে পড়া এবং হিজবুল্লাহর শক্তি হ্রাস পাওয়া তাদের নিরস্ত্র করার একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে।

যদিও এই প্রক্রিয়ায় লেবানন রাষ্ট্রের সম্মতি পেতে হলে বড় ধরনের বিনিময়ের প্রয়োজন বলেই মনে করেন বেইটম্যান।

অন্যদিকে, হিজবুল্লাহও নিজেদের ইসরাইলের বিরুদ্ধে লেবাননের একমাত্র কার্যকর সশস্ত্র প্রতিরোধ শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে।

বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যদি কেবল চাপ প্রয়োগের নীতি অনুসরণ করে এবং কোনো কার্যকর প্রণোদনা না দেয়, তাহলে তা লেবাননে নতুন করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দিতে পারে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...