আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে দুই নেতার মধ্যে এ বৈঠক হয়। ট্রাম্প-মোদির মধ্যে এ বৈঠকে শুল্ক, দ্বিপক্ষীয় ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার উষ্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। ২০১৯ সালে আমেরিকার হিউস্টন এবং ২০২০ সালে ভারতের আহমেদাবাদে দুই নেতার একত্রে বিশাল সমাবেশ থেকে তাদের সম্পর্কের গভীরতা প্রকাশ পায়।
তবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দৃশ্যপট ভিন্ন হয়ে গেছে। শপথ গ্রহণের এক মাসের কম সময়ে শত্রু-মিত্র নির্বিশেষে বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধেই শুল্কারোপের হুমকি দিয়ে চলছেন তিনি।
ভারতকেও ট্রাম্প এরই মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ‘সুবিধার অপব্যবহারকারী’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ট্রাম্পের শুল্কারোপ ভারতকে কঠিনভাবে আঘাত করেছে।
এদিকে দুই নেতার সাক্ষাতের আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, আমেরিকা থেকে আরো বেশি তরল প্রাকৃতিক গ্যাস, সাঁজোয়া যান ও জেট ইঞ্জিন কেনার প্রস্তাব প্রস্তুত করছেন মোদি।
এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেনের অংশ হিসেবে ভারতে আমেরিকার কৃষিপণ্য রপ্তানি ও আমেরিকার পরমাণু জ্বালানিতে বিনিয়োগ চুক্তি হওয়ার কথা বলেছেন ভারতীয় কর্মকর্তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আমেরিকার একটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, ভারতের এ প্রস্তাবগুলোকে ট্রাম্প প্রশাসন উপহার হিসেবে বিবেচনা করছে। এর বিনিময়ে মোদি ট্রাম্পের কাছ থেকে কিছু সুবিধা প্রত্যাশা করতে পারেন।
প্রথমত, মোদি চান আমেরিকায় ঘুসের মামলায় ফেঁসে যাওয়া মিত্র গৌতম আদানির বিষয়ে ট্রাম্পের সদয় সিদ্ধান্ত। দ্বিতীয়ত, জো বাইডেনের শাসনামলে আমেরিকার মাটিতে শিখ অধিকারকর্মী গুরপাতবন্ত সিং পান্নুনকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে যাতে ট্রাম্প তাকে সহায়তা করেন।
তবে এ বৈঠকে শুল্কই আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ভারতবিষয়ক বিশ্লেষক রিচার্ড রসো।
তিনি বলেন, ‘এটি একটি বক্সিং ম্যাচ। ভারত কিছু সুবিধা পেলেও তার সীমাবদ্ধতা রয়েছে।’
ভারতের সঙ্গে আমেরিকার ৪ হাজার ৫৬০ ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) তথ্য অনুসারে, আমেরিকায় রপ্তানিপণ্যে গড়ে ২.২ শতাংশ শুল্কারোপ করা হয়। এর বিপরীতে ভারতে রপ্তানিপণ্যে শুল্কারোপ করা হয় ১২ শতাংশ।
ট্রাম্প প্রশাসন আমেরিকার পণ্যে শুল্কারোপ করা প্রতিটি দেশের বিরুদ্ধেই পাল্টা শুল্কারোপের হুমকি দিয়ে আসছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

