রেকর্ড খরার কারণে ফ্রান্সে ছোট নদী-খালগুলোর অবস্থা নজিরবিহীনভাবে অবনতি হয়েছে। দেশটির ফরাসি জীববৈচিত্র্য দপ্তর (ওএফবি)-এর প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৪৩ শতাংশ ছোট জলধারায় পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়েছে অথবা সেগুলো সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ১ আগস্ট পর্যন্ত মূল ভূখণ্ড ফ্রান্স এবং কর্সিকা জুড়ে মোট ১,৩৭৩টি ছোট জলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এটিকে ‘বছরের এই সময়ে এখন পর্যন্ত দেখা সবচেয়ে সংকটজনক পরিস্থিতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। খবর আনাদেোলুর।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভির তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাইয়ের তুলনায় ক্ষতিগ্রস্ত জলধারার সংখ্যা ৫৫৪টি বেড়েছে। দেশব্যাপী ৩ হাজার ২৩০টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র নিয়ে পরিচালিত ন্যাশনাল লো ওয়াটার অবজারভেটরি নেটওয়ার্কের তথ্যের ভিত্তিতে এ মূল্যায়ন করা হয়েছে।
ওএফবি জানিয়েছে, ফ্রান্সের সব অঞ্চলই খরার প্রভাবে আক্রান্ত। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের ভঁদে বিভাগ থেকে পূর্বাঞ্চলের গ্রঁদ এস্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ-মধ্য ফ্রান্সেও খরার প্রভাব ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিভাগগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রুজ, ভঁদে, লোয়ার-আটলান্টিক, আভেরোঁ, কোট-দ’র, নিয়েভর, দ্যু-সেভর এবং শারঁত-মারিতিম।
সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি ২০২২ সালের ভয়াবহ খরাকেও ছাড়িয়ে গেছে। সে সময়ের তুলনায় আরও ১১২টি জলধারায় পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়েছে বা সেগুলো শুকিয়ে গেছে। এছাড়া ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় পরিস্থিতি দুই গুণেরও বেশি অবনতি হয়েছে।
কৃষি-জলবায়ু বিশেষজ্ঞ সার্জ জাকা বলেন, ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম ফ্রান্সের জন্য একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হয়ে উঠছে। তাঁর ভাষায়, দেশের কিছু জলজ পরিবেশের ক্ষেত্রে এ অবস্থাকে ‘পরিবেশগত বিপর্যয়’ বলা এড়িয়ে যাওয়া এখন কঠিন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী-খাল শুকিয়ে গেলে সেগুলো আর স্বাভাবিকভাবে পানি পরিশোধন, ভূগর্ভস্থ পানির পুনঃভরণ এবং মিঠাপানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে না।
এদিকে, ভূগর্ভস্থ পানির মজুতও দ্রুত কমছে। ১৫ জুলাই পর্যন্ত ফ্রান্সের ৬০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ পানির স্তরকে মাঝারি থেকে অত্যন্ত নিম্ন পর্যায়ে শ্রেণিবদ্ধ করেছে দেশটির ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


