গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির শর্তে সব জিম্মিকে মুক্তি দিবে হামাস

গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতির শর্তে সব জিম্মিকে মুক্তি দিবে হামাস

ইসরাইলের আগ্রাসন বন্ধে গাজায় প্রথম দফায় যুদ্ধবিরতি চলছে। চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং অবরুদ্ধ অঞ্চল থেকে ইসরাইলের সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের বিনিময়ে সব জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস। বুধবার এক বিবৃতিতে হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম এ ঘোষণা দেন। কাশেম জানিয়েছেন, হামাস দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত। মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে তারা মুক্তিপ্রাপ্ত জিম্মি সংখ্যা দ্বিগুণ করবে কিন্তু এজন্য ইসরাইলকে তাদের নতুন এই শর্ত মানতে হবে। কারণ ইতোমধ্যে হামাস যুদ্ধবিরতির সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে।

হাজেম কাশেম টেলিগ্রাফকে জানিয়েছেন, গাজা থেকে হামাসকে সরানোর চিন্তা নিছকই মূর্খ মনস্তাত্ত্বিক কৌশল ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ গাজা থেকে তাদের কখনোই সরানো যাবে না এবং তাদের নিরস্ত্রীকরণও সম্ভব নয়। হামাসের প্রতিরোধ বিদ্যমান থাকবে। তবে হামাসকে সরিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ যদি গাজার স্বার্থসংশ্লিষ্ট হয় তবে তারা যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে নিজেদের ক্ষমতা ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। গাজা নিয়ে আগামীতে যেকোনো বন্দোবস্ত ফিলিস্তিনি জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

এদিকে হামাস নেতা খলিল আল-হাইয়া জানিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহের পরিবর্তে শনিবার তিন জনের বদলে ছয় জিম্মিকে মুক্তি দেবে তারা এবং বৃহস্পতিবার চার জনের লাশ ফেরত দেবে। চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ের দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য হামাস একদিন আগেই এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। বুধবারের বিবৃতিতে কাসেম বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে এবং চুক্তির সব শর্ত বাস্তবায়নে হামাস যে কতটা ইতিবাচক তা প্রমাণের জন্য মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দির সংখ্যা দ্বিগুণ করা হয়েছে। মূলত আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসরাইল থেকে প্রতি সপ্তাহে জিম্মি মুক্তির বিষয়টি নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য এবং গাজায় অবশিষ্ট বন্দিদের পরিবার তাদের সবাইকে একসঙ্গে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানানোর পর হামাস এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন কাসেম।

তবে সোমবার ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। মিসরের রাজধানী কায়রোয় আলোচনার জন্য ইসরাইলি প্রতিনিধিদের এখনো কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে দ্বিতীয় ধাপের জিম্মি মুক্তি-যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে আলোচনা স্থগিত রয়েছে।

এদিকে ইসরাইলের হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৪৮ হাজার ২৯১। আহতের সংখ্যা এক লাখ ১১ হাজার ৭২২ জন। ধ্বংস হয়েছে হাজার হাজার ঘরবাড়ি, অবকাঠামো। এ অবস্থায় গাজা পুনর্নির্মাণে ৫৩ দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিশ্বব্যাংক। এর মধ্যে আবাসন খাতের জন্য ধরা হয়েছে প্রায় ১৫ দশমিক দুই বিলিয়ন ডলার। গাজা ও পশ্চিম তীরের অন্তর্বর্তীকালীন দ্রুত ক্ষয়ক্ষতি ও চাহিদা মূল্যায়ন করে মঙ্গলবার এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এতে বলা হয়, ৮ অক্টোবর ২০২৩ থেকে ৮ অক্টোবর ২০২৪ সালের মধ্যে গাজায় ইসরাইলের হামলায় ৪৯ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যেও বিভিন্ন স্থানে হামলা অব্যাহত রেখেছে আইডিএফ। গাজায় ২৬৬ বার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল। গত ১৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইসরাইলি কারাগার থেকে এক হাজার ১৩৫ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহে আরো ৫০২ জনকে মুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন