আমেরিকার সহায়তা ও সমর্থন ছাড়া রাশিয়ার এতদিন ধরে চলা আগ্রাসন মোকাবিলা করে টিকে থাকা ইউক্রেনের পক্ষে সম্ভব হতো না। এমনটাই বলেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
গত শুক্রবার জার্মানিতে মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় জেলেনস্কি বলেন, আমেরিকার সামরিক সহায়তা ছাড়া রাশিয়ার আক্রমণ থেকে ইউক্রেনের টিকে থাকার ‘সম্ভাবনা খুবই কম’ এবং একই সঙ্গে কঠিনও। তিনি আরো বলেন, আপনি জানেন যে, এখানে কঠিন পরিস্থিতি এবং আপনার কাছে সুযোগ আছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া আমাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম।
জেলেনস্কি বলেন, পুতিন যুদ্ধ শেষ করতে আগ্রহী নন, কেবল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহী। কারণ এতে তার ওপর থাকা আমেরিকার নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার করাতে সুবিধা হবে। একই সঙ্গে এটি রাশিয়ার সেনাবাহিনীকে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দেবে।
সাক্ষাৎকারে আমেরিকার সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউক্রেন সামরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া এবং রাশিয়ার আক্রমণের জন্য আরো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
এদিকে, গত বুধবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী ফোনালাপ করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই ফোনালাপের পর দুই দেশই যুদ্ধের অবসানের কথা জানায়। ক্ষমতা নেওয়ার পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের এটি প্রথম বড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ ট্রাম্পের।
ওই ফোনালাপের পর ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি কিয়েভের ন্যাটোতে যোগদানকে বাস্তবসম্মত মনে করেন না। একই সঙ্গে রাশিয়ার দখলে থাকা সব ভূমিও ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা কম ইউক্রেনের। ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা শুরু করেছিল রাশিয়া।
নিজ দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তনের মাধ্যমে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, তিনি শিগগিরই যুদ্ধবিরতির আলোচনা শুরুর জন্য পুতিনের সঙ্গে দেখা করবেন। আর এ বৈঠকের জন্য সৌদি আরবকে বেছে নেবেন তিনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

