প্রশিক্ষণ ছাড়াই গাজায় সেনা পাঠাচ্ছে ইসরাইল

প্রশিক্ষণ ছাড়াই গাজায় সেনা পাঠাচ্ছে ইসরাইল

অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইল। এর মধ্যে পেরিয়ে গেছে ১৮ মাস। ইসরাইলি আগ্রাসন প্রতিরোধ করতে গিয়ে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলো হারিয়েছে তাদের বিপুল যোদ্ধা। তেল আবিবের কর্মকর্তাদের তথ্য অনুসারে, স্বাধীনতাকামী হামাসের সামরিক শাখার প্রায় ১৮ থেকে ২০ হাজার যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। তবে এতেও শক্তি কমেনি তাদের।

গত রোববার সৌদি মালিকানাধীন টিভি চ্যানেল আল-আরাবিয়ায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, গাজায় হামাসের সামরিক শাখা ইজ্জুদ্দিন আল-কাসসাম ব্রিগেডে নতুন করে আরো ৩০ হাজার যোদ্ধা যোগ দিয়েছেন। নতুন এ যোদ্ধারা গোপন সামরিক শিবিরে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

গেরিলা যুদ্ধকৌশল, রকেট নিক্ষেপ ও বিস্ফোরক পুঁতে রাখা ছাড়া আর কোনো প্রশিক্ষণ এ যোদ্ধাদের নেই বলে খবর জানানো হয়। তবে এ যোদ্ধারা ঠিক কবে যোগ দিয়েছেন বা যুদ্ধের মধ্যেই তারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন কি না, এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম কানে রোববার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় সেনা স্বল্পতার কারণে পূর্ণ প্রশিক্ষণ ছাড়াই ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী-আইডিএফের গোলানি ও গিভাতি ব্রিগেডের সদস্যদের অবরুদ্ধ উপত্যকায় পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ডিসেম্বরে এ সেনাদের যুদ্ধে মোতায়েন করা হয়।

আইডিএফের এ পদক্ষেপের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে ইসরাইলের চাপের চিত্রই প্রতিফলিত হয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরনথের খবরে বলা হয়, সামরিক বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এইয়াল জামির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে জানিয়েছিলেন, সেনা স্বল্পতার কারণে গাজায় ইসরাইলি রাজনৈতিক নেতৃত্বের লক্ষ্য পূরণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এরই মধ্যে আগ্রাসন অব্যাহত চালিয়ে যাচ্ছে আইডিএফ। সোমবার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় গাজায় হামলায় ৩৯ ফিলিস্তিনি নিহত ও আরো ৬২ জন আহত হয়েছেন। এ নিয়ে ১৮ মাসের আগ্রাসনে মোট ৫১ হাজার ২৪০ জন নিহত ও এক লাখ ১৬ হাজার ৯৩১ জন আহত হয়েছেন।

আগ্রাসনের মধ্যেই ইসরাইলি অর্থমন্ত্রী বেৎজালের স্মৎরিচ জানিয়েছেন, গাজায় আটক জিম্মিদের মুক্তি তেল আবিবের সরকারের অগ্রাধিকারে নেই। সোমবার গালেই ইসরাইল রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। স্মৎরিচ বলেন, ‘আমাদের উচিত গাজা সমস্যাটি নির্মূল করা।’

গাজায় ইসরাইলি হামলা চলার সঙ্গে সঙ্গে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরে তাণ্ডব চালাচ্ছে ইসরাইলি সেনা ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা।

বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানায়, সোমবার পশ্চিম তীরের জেনিনে ২৪ বছর বয়সি এক ফিলিস্তিনি তরুণকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরাইলি সেনারা। ওই তরুণকে হত্যার পর তার লাশ জব্দ করে নিয়ে যান তারা।

এ ছাড়া নাবলুসে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে ১৬ বছর বয়সি এক কিশোর মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। হেবরনের পশ্চিমে ইজনা শহরে বন্দুকের মুখে ফিলিস্তিনিদের সব দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। তুলকারেমের পূর্বে জাবাল আন-নাসর এলাকায় ১০ পরিবারকে তাদের বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে।

এদিকে কানের প্রকাশিত এক জরিপে জানানো হয়েছে, গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করে সব জিম্মিকে মুক্ত করতে হামাসের সঙ্গে চুক্তির জন্য ৫৬ শতাংশ ইসরাইলি মত জানিয়েছে। এর বিপক্ষে ২২ শতাংশ ইসরাইলি এ ধরনের যে কোনো চুক্তির বিরোধিতা করছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন