ব্রিটেনের সামরিক বাহিনীর সাবেক সেনারা জানিয়েছেন, দুই দশক আগে আমেরিকা-ব্রিটেনের আফগানিস্তান ও ইরাকে যৌথ সামরিক আগ্রাসনের সময় যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল ব্রিটিশ সেনারা। সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্যানারোমার এক অনুষ্ঠানে ৩০ জনের বেশি সাবেক ব্রিটিশ সেনা এ স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
সোমবার প্রচারিত হওয়া ওই অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর সাবেক এ সেনারা জানান, বিভিন্ন সময়ই শিশুসহ বেসামরিক লোকজনকে ধরপাকড় ও হত্যা করেছে ব্রিটিশ সেনারা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়া সেনারা ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর অভিযানের বিষয়ে নীরবতা পালনের নীতির কারণে কোনো ধরনের পরিচয় প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান।
অনুষ্ঠানে ওই ব্রিটিশ সেনারা বলেন, বন্দিদের হত্যা করা এক ধরনের ‘রুটিন’ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। নিহত বন্দিদের হাতকড়া খুলে তাদের হাতে অস্ত্র ধরিয়ে দেওয়া হতো, যাতে মনে হয় ওই বন্দিরাই অস্ত্র নিয়ে আক্রমণ করতে এসেছিল।
ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর অধীন স্পেশাল ফোর্সের এক সাবেক সেনা জানান, আফগানিস্তানে একবার এক শিশুকে হাতকড়া পরিয়ে গুলি করেন তার সহকর্মীরা। ওই শিশুর অস্ত্র হাতে নেওয়ারও বয়স ছিল না।
আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালন করা ব্রিটিশ নৌবাহিনীর অধীন স্পেশাল ফোর্সের সাবেক এক সেনা জানান, মানুষ হত্যার নেশা হয়ে গিয়েছিল তার কিছু সহকর্মীর।
তিনি বলেন, ‘কখনো কখনো তারা অভিযানে গিয়ে অতিথিশালার মতো কোনো ভবনে গিয়ে সবাইকে হত্যা করত।’
কেউ যদি আহত হয়েও বেঁচে থাকত, তাকেও বাছাই করে নিয়ে হত্যা করা হতো বলে জানান তিনি।
ইরাকে দায়িত্ব পালন করা ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর স্পেশাল ফোর্সের এক সাবেক সেনা জানান, কোনো ধরনের হুমকি না হওয়ার পরও কোনো ধরনের পেশাদারিত্বের তোয়াক্কা না করে নিরস্ত্র ব্যক্তিদের হত্যা করেছে তার সহকর্মীরা।
এছাড়া বিবিসির হাতে ব্রিটিশ বাহিনীর যুদ্ধাপরাধে যুক্ত থাকার নতুন কিছু ভিডিও এসেছে, যাতে দেখা যায় ব্রিটিশ সেনারা তাদের হাতে হত্যার সংখ্যা নিয়ে পরস্পর প্রতিযোগিতা করছে।
এক সাবেক সেনা জানান, তার এক সাবেক সহকর্মী প্রতিটি অভিযানে গিয়েই হত্যার চেষ্টা করত। সাধারণ মানুষ হত্যার জন্য সে কুখ্যাত হয়ে পড়েছিল।
এ হত্যাকাণ্ডগুলো চাপা দিতে সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ‘মিথ্যা ও কাল্পনিক’ অভিযান-পরবর্তী প্রতিবেদন তৈরি করতেন বলে বিবিসির প্যানারোমা অনুষ্ঠানে জানান সাবেক সেনারা।
এক সেনা বলেন, তারা বুঝে গিয়েছিলেন কীভাবে গুরুতর পর্যালোচনা প্রতিবেদন লিখতে হবে, যাতে অভিযান নিয়ে কোনো পক্ষ থেকে কোনো সমস্যা না হয়।
বিবিসির প্যানারোমার ওই অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ বিষয়ে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনকে বারবার উদ্বেগ জানিয়েছেন সে সময়ের আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই।
ন্যাটোতে আমেরিকার সাবেক দূত ডগলাস লুট জানান, তিনি প্রায়ই রাত্রিকালীন অভিযান, বেসামরিক হতাহত ও গ্রেপ্তারি নিয়ে অভিযোগ জানাতেন।
এ বিষয়ে ডেভিড ক্যামেরনের এক মুখপাত্র জানান, এ উদ্বেগ পুরো ন্যাটোর বাহিনীর বিরুদ্ধেই ছিল, শুধু ব্রিটিশ অভিযানকে নির্দিষ্ট করে ছিল না।
তবে আর কিছু নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন তিনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

