ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির ঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো মার্কিন বিমান হামলায় এক মাসে ৫০০ সদস্য নিহত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তা এমন দাবি করেছেন। গতকাল এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া এ তথ্য জানিয়েছে ।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩৫ দিন একনাগাড়ে বিমান ও নৌ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইয়েমেনের নতুন অঞ্চলে অভিযান প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিহতের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সূত্রমতে, এসব হামলায় নিহত অনেকেই গোষ্ঠীটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা, ড্রোন অপারেটর এবং ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞসহ শীর্ষ স্তরের অপারেটিভ।
একটি সূত্র আল আরাবিয়াকে জানিয়েছে, একাধিক হুতি প্রশিক্ষণ শিবির মার্কিন হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। যোদ্ধাদের মধ্যে কেউ বেঁচে নেই। কর্মকর্তারা বলেছেন, হুতিরা নিহত যোদ্ধাদের পরিবারকে নীরব থাকার জন্য চাপ দিচ্ছে। আতঙ্ক এড়াতে কেবল নিম্ন স্তরের সদস্যদের মৃত্যুর কথা স্বীকার করছে গোষ্ঠীটি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে একজন ইয়েমেনি নাগরিক সামাজিক মাধ্যম এক্সে দাবি করেছে, মার্কিন হামলায় নিহত হুতির সংখ্যা ৬৫০ জনেরও বেশি। এই দাবি করা ব্যক্তির নাম শেখ জামাল আল-মামারি, যিনি আগে হুতির হাতে বন্দি ছিলেন। তবে সংবাদমাধ্যমটি স্বাধীনভাবে নিহতের তালিকার সঠিকতা যাচাই করতে পারেনি।
মার্কিন এসব হামলায় নিহত হয়েছেন অনেক বেসামরিক নাগরিকও। তবে কতজন বেসামরিক ইয়েমেনি মারা গেছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। এসব হামলায় দুর্বল হয়ে পড়েছে হুতির সামরিক সক্ষমতা।
আল আরাবিয়ার খবরে আরো বলা হয়েছে, মার্কিন অভিযানগুলো সোমবার রাত পর্যন্ত অব্যাহত ছিল এবং আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
একাধিক মার্কিন মিডিয়া আউটলেট জানিয়েছে, রাজধানী এবং গুরুত্বপূর্ণ বন্দর-শহর থেকে তাদের জোরপূর্বক সরানোর জন্য প্রস্তুতি চলছে একটি স্থল অভিযানেরও।
এদিকে হুতিদের পাল্টা হামলায় ক্ষতির মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সময়ে দেশটি কমপক্ষে পাঁচটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে, যার প্রতিটির মূল্য ৩০ মিলিয়ন ডলার।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

