যে লাইটার বা ফ্যান আমাদের কাছে খুবই সাধারণ জিনিস, গাজার মানুষের কাছে তা এখন টিকে থাকার এক বিশাল সংগ্রামের নাম। একটি সাধারণ লাইটারের দাম মাত্র ১০ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও তা প্রায় ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে একটি লাইটারের দাম ১২০ শেকেল (৪০ ডলার)। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
রান্নার গ্যাস না থাকায় কাঠ বা কাগজ পুড়িয়ে রান্না করতে হয়, আর সেই আগুন জ্বালানোর জন্য লাইটার এখন সেখানে আটা বা পানির মতোই অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে তাবুগুলো আগুনের মতো তেতে থাকে, ফলে টিকে থাকার জন্য একটি ফ্যান বা বৈদ্যুতিক পাখা সেখানে বড় ভরসা। বাজারে নতুন ফ্যান পাওয়া যাচ্ছে না এবং একটি পুরনো বা ভাঙাচোরা ফ্যানের দামও প্রায় ৫০ হাজার টাকা।
ফ্যান না থাকায় মোহাম্মদ আবু এল এনালাইনের মতো বাবারা তাদের সন্তানদের কাগজের টুকরো দিয়ে বাতাস করেন বা গায়ে পানি ছিটিয়ে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করেন।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইল গাজায় খাদ্য ও বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে।
স্থানীয় কারিগরদের মতে, গত তিন বছর ধরে গাজায় ফ্যানের কোনো নতুন মোটর বা যন্ত্রাংশ প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ফ্যান মেরামতের কারিগর মোহাম্মদ আবু আলওয়ান জানান, তারা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে পুরোনো ফ্যান খুঁজে বের করে জোড়াতালি দিয়ে কোনোমতে বাতাসের ব্যবস্থা করছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


