পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী ও ওমান সাগরে নিরাপত্তাহীনতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ীকে করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজায়ি। তিনি বলেন, ইরানের ওপর একটি অবৈধ যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র পুরো অঞ্চলকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। এসময় যুদ্ধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খুলবে না বলেও মন্তব্য করে তিনি।
তেহরানে চীনের রাষ্ট্রদূত জং পেইউয়ের সঙ্গে বৈঠককালে এসব কথা বলেন রেজায়ি।
তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে ইরান ও চীনের মধ্যে গঠনমূলক ও স্থিতিশীল সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে একটি কৌশলগত চুক্তি রয়েছে এবং উভয় দেশই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও ব্রিকসের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জোটের সদস্য।
তার মতে, ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো বিস্তারের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ‘রমজান যুদ্ধ’-এর (২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির রমজানে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ আক্রমণ) সময় ইরানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত একটি প্রস্তাবে চীনের সমর্থন না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন রেজায়ি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তার আচরণ পরিবর্তন এবং ইরানের শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খুলবে না। যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে, ইরানের জব্দ করা অর্থ ফেরত দিতে হবে এবং লেবানন ও গাজাসহ পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। এছাড়াও ইরানের আরও কিছু শর্ত রয়েছে, যা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
রেজায়ি আরো বলেন, ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের কোনো পথ নিয়ে চুক্তি হলে সেটি প্রণালী অবরোধের বিষয় থেকে আলাদা হবে। দুটি বিষয়কে এক করে দেখা যাবে না। বৈঠকে চীনের রাষ্ট্রদূত ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি চীনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি ইরান ও চীনকে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার বিরোধিতা করে চীন।
চীন ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহী বলেও জানান জং পেইউ। তার মতে, ইরানের শক্তির পাশাপাশি বিচক্ষণতা ও প্রজ্ঞাও রয়েছে এবং দেশটি বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম। তিনি আরও বলেন, পশ্চিম এশিয়া ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধিকে চীন সবসময় স্বাগত জানায়।
সূত্র: প্রেসটিভি
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


