তাইওয়ানে এআই দিয়ে ‘অস্বাভাবিক’ সাইবার হামলা

তাইওয়ানে এআই দিয়ে ‘অস্বাভাবিক’ সাইবার হামলা
ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

তাইওয়ানের সরকারি বিভিন্ন সংস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ‘অস্বাভাবিক’ সাইবার হামলা হয়েছে। গত ২০ জুলাই থেকে বিদেশি উৎস থেকে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তাইওয়ানের ডিজিটালবিষয়ক মন্ত্রণালয়। হামলায় এআই ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হ্যাকিংয়ের সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে একটি ইসরাইলি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান।

তাইওয়ানের ডিজিটালবিষয়ক মন্ত্রণালয় (এমডিএ) গতকাল জানিয়েছে, সরকারি সংস্থাগুলো লক্ষ্য করে চালানো হামলাটি দেশটির সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ ইউনিট শনাক্ত করে। বিষয়টি তদন্তের সময় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সাইবার সিকিউরিটি কয়েক দফা সতর্কবার্তা জারি করে।

বিজ্ঞাপন

হামলাটি শনাক্ত করা ইসরাইলি এআই প্রতিষ্ঠান ড্রিমের বরাত দিয়ে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, হামলাকারীরা ওপেন সোর্স এআই এজেন্ট ব্যবহার করে একটি স্বয়ংক্রিয় হ্যাকিং টুল তৈরি করেছিল। টুলটি সমন্বিত একটি সাইবার দলের মতো কাজ করেছে।

ড্রিমের ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা এর আগে দেখা যায়নি।

৮৫ সরকারি অ্যাকাউন্টে প্রবেশ

ড্রিমের দাবি, হামলাকারীরা অন্তত ৮৫টি সরকারি ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে। এসব অ্যাকাউন্ট থেকে ২ হাজার ৫০০টির বেশি কর্মীর তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

পরে হামলার পরিধি আরো বাড়ানো হয়। তাইওয়ানের পারমাণবিক নিরাপত্তা সংস্থা এবং অন্তত সাতটি জ্বালানি কোম্পানিকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

তাইওয়ানের ডিজিটালবিষয়ক মন্ত্রণালয় বলেছে, হামলার উৎস, পদ্ধতি ও এর প্রভাবের পরিধি নিয়ে তদন্ত শেষ হয়েছে। আক্রান্ত সংস্থাগুলোও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।

নতুন ধরনের এই হুমকি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষামূলক নির্দেশিকা তৈরি করেছে সরকার। পাশাপাশি হামলা আগেই শনাক্ত করে ঠেকাতে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

চীনের সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ

তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ অবশ্য হামলার জন্য সরাসরি চীনকে দায়ী করেনি। তবে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, চীনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের এ হামলার পেছনে থাকার সন্দেহ করা হচ্ছে।

ড্রিমও হামলার সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করেনি। তবে হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে সরলীকৃত চীনা ভাষা ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে হামলাকারীরা চীনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

তাইওয়ান কয়েক বছর ধরে চীনের বিরুদ্ধে ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ চালানোর অভিযোগ করে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে দ্বীপটির আশপাশে সামরিক মহড়া, অপতথ্য ছড়ানো এবং সাইবার হামলা।

তাইওয়ানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে চীনা সাইবার হামলা ২০২৫ সালে আগের বছরের তুলনায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। হাসপাতাল, ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় প্রতিদিন গড়ে ২৬ লাখ ৩০ হাজার হামলা হয়েছে। কিছু হামলা সামরিক মহড়ার সঙ্গে সমন্বিত ছিল বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

এআই-নির্ভর হামলা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

সাইবার হামলায় এআই ব্যবহারের প্রবণতা কয়েক বছর ধরেই বাড়ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে উন্নত এআই মডেল ব্যবহারের ফলে হামলাকারীদের সক্ষমতা আরো বেড়েছে। এসব মডেল দিয়ে দ্রুত লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত, নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা খুঁজে বের এবং তা কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে।

কোড নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সেমগ্রেপের নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষক ক্রিস থমাস বলেন, তাইওয়ানের ওপর হামলাটি দেখিয়েছে, এআই-সহায়িত হ্যাকাররা কত দ্রুত লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে পারে।

তবে এআইকে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় হ্যাকিংয়ের হাতিয়ার হিসেবে দেখার বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি।

তার মতে, হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ, উদ্দেশ্য ঠিক করা এবং এআইকে নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে এখনো মানুষের ভূমিকা রয়েছে।

থমাস বলেন, ‘এটি পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় নয়। এর পেছনে একজন দক্ষ পরিচালনাকারী ছিলেন।’

তাইওয়ানের প্রকাশিত বিবৃতিতে হামলার সঙ্গে চীনের কোনো যোগসূত্রের কথা বলা হয়নি। এ বিষয়ে চীনের তাইওয়ানবিষয়ক দপ্তরও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের আগের প্রতিবেদন নিয়েও তাইওয়ান ও চীনা কর্তৃপক্ষ মন্তব্য করেনি।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন