এনবিসি-কে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট

আমেরিকার সহায়তা ছাড়া ৬ মাসও টিকে থাকা সম্ভব নয়

আমেরিকার সহায়তা ছাড়া ৬ মাসও টিকে থাকা সম্ভব নয়

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রেুয়ারি ইউক্রেনে হামলা চালায় রাশিয়া। এর পর থেকে দেশটিতে নিজেদের আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে রুশবাহিনী। এবার সেই যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করার কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প। ওই বৈঠকের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গতকাল মঙ্গলবার সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত হয় দুই দেশের শীর্ষপর্যায়ের প্রতিনিধিদের বৈঠক। কিন্তু যে ইউক্রেনকে নিয়ে এত আলোচনা, সে দেশটির কোনো প্রতিনিধিই রাখা হয়নি প্রাক-প্রস্তুতির ওই বৈঠকে, যা নিয়ে উদ্বিগ্ন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভেলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইউরোপীয় নেতারা। এজন্য ফ্র্যান্সের প্যারিসে জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ইউরোপীয় পক্ষগুলো।

ওই বৈঠকের আগে এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেছেন, আমেরিকার সামরিক সমর্থন ছাড়া রাশিয়ার সঙ্গে লড়াইয়ে ছয় মাসও টিকে থাকা সম্ভব নয় তাদের পক্ষে। তাই আমেরিকা সহায়তা বন্ধ করে দিলে তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।

বিজ্ঞাপন

গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইউক্রেনে সামরিক সহায়তা বন্ধের পরিকল্পনা করছেন তিনি।

তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হতে পারে এমন পদক্ষেপ এরই মধ্যে নিয়ে ফেলেছেন জেলেনস্কি। আর তা হলো- ইউক্রেনের বিরল খনিজসম্পদের ৫০ শতাংশের মালিকানা দাবি করেছেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের বক্তব্যে এই সম্পদ দিয়ে সামরিক সহায়তার ঋণ পরিশোধ করবে ইউক্রেন। তবে ট্রাম্পের এমন প্রস্তাব পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন জেলেনস্কি। আর এই প্রত্যাখানের পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

কিয়েভ ট্রাম্প প্রশাসনের কাছ থেকে আগের মতো নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা পাবে কি না, সেটা এখনো অনিশ্চিত। না পেলে সেই শূন্যস্থান পূরণ নিয়ে ইউরোপের দেশগুলোও বেশ চাপে পড়েছে।

১৪ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে জেলেনস্কি তার বক্তব্যে ইউরোপের ‘নিজস্ব সামরিক বাহিনী’ তৈরির বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমেরিকা বিষয়টি নাকচ করতে পারে এমন সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। কারণ এটি তাদের জন্য হুমকিস্বরূপ।

ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ডেপুটি হেড অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইহোর রোমানেনঙ্কো বলেছেন, ইউক্রেনকে সহায়তায় ইউরোপ আমেরিকার বিকল্প হতে পারবে না। কারণ ওয়াশিংটনের সামরিক সহায়তা ছাড়া ইউক্রেনের পক্ষে বেশিদিন যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া একেবারেই সম্ভব নয়। খুব সম্ভব ছয় মাস টিকে থাকা যাবে।

এদিকে, গতকাল বুধবার ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ওডিসার আবাসিক এলাকায় রাতভর হামলা চালিয়েছে রাশিয়ার। এতে এই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, কমপক্ষে ১ লাখ ৬০ হাজার বাসিন্দা বিদ্যুৎবিহীন রয়েছে। এ ছাড়া ১৪টি স্কুল, একটি কিন্ডারগার্টেন এবং বেশ কয়েকটি হাসপাতালও বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন