ইসরাইলের অবরোধ ভেঙে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে স্পেনের বার্সেলোনা বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছে ত্রাণবাহী জাহাজের বহর গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে নৌবহরটি গাজায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রোববার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়, রোববার বিকেলে স্থানীয় সময় ৩:৩০ টায় নৌবহরটি বার্সেলোনা ত্যাগ করে। বিদায় জানাতে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন বিপুল সংখ্যক মানুষ, যাদের মধ্যে ছিলেন কর্মী, সমর্থক এবং সহায়তা কর্মীরাও।
এই নৌবহরের অন্যতম জাহাজ ‘ফ্যামিলিয়া’ থেকে এক কর্মী জানান, যাত্রার মুহূর্তে বিদায় জানাতে এত মানুষের সমাগম ছিল অভূতপূর্ব, যা তাদের মনোবল আরও উঁচু করেছে।
সুইডিশ জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার নেতারা এই ফ্লোটিলায় অংশ নিচ্ছেন। থুনবার্গ বলেন, ইসরাইল ফিলিস্তিনি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করছে এবং বিশ্ব নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
জাতিসংঘ সম্প্রতি গাজায় দুর্ভিক্ষের ঘোষণা দেওয়ার পর এই মিশনের আয়োজন করা হয়। বর্তমানে ইসরাইল গাজা শহর এবং আশপাশের এলাকায় দখলকাজ জোরদার করেছে, যার ফলে প্রায় ১০ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা একটি স্বাধীন গোষ্ঠী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয় এবং কোনও রাষ্ট্র বা রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত নয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত ৪৪টি দেশের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিয়েছেন এবং গ্রীস, ইতালি ও তিউনিসিয়ার বন্দর থেকেও আরও নৌকা যোগ দেবে।
আগামী মাসের মাঝামাঝি নৌবহরটি গাজায় পৌঁছাতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এটি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। জুন ও জুলাই মাসে গাজামুখী দুটি পৃথক নৌযাত্রা ইসরাইলি বাহিনী দ্বারা আটক ও ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
নৌবহরে অংশ নেওয়া এক সংগঠক বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যেই একাধিকবার বাধার সম্মুখীন হয়েছি, অপহৃত হয়েছি, কিন্তু আমরা কথা দিয়েছিলাম ফিরে আসব। এবারও এসেছি।’
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নৌবহর সরাসরি দুর্ভিক্ষ নিরসনে না পারলেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী প্রতিবাদ। একই সঙ্গে বহু জাহাজ একযোগে আসায় ইসরাইলের পক্ষে এগুলো থামানো লজিস্টিক দিক থেকে কঠিন হতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

