কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করলেও চীন, ভারত, কাতার ও ইরাক—এই চার দেশকে বিশেষ ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ অবরোধ ও সম্ভাব্য সামরিক চাপের মধ্যেই এমন সিদ্ধান্তের পেছনে তেহরানের বড় ধরনের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও ভূরাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির উপপ্রধান আমির হায়াত মোকাদ্দামের বরাতে জানা গেছে, এই চার দেশের জাহাজ অবাধে হরমুজ প্রণালি পার হতে পারছে। তবে এর বিনিময়ে ইরান প্রতিটি দেশের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট সুবিধা আদায়ের কৌশল নিয়েছে।
কী পাচ্ছে ইরান?
• ভারতের কাছ থেকে ওষুধ ও পণ্য আমদানি:
দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর তীব্র সংকট রয়েছে। ওষুধ উৎপাদনে ভারত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। ইরান নিজেদের জলসীমায় ভারতকে চলাচলের বিশেষ সুবিধা দিয়ে তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানির নিশ্চয়তা পেতে চাইছে। পাশাপাশি ভারতীয় জাহাজ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ট্রানজিট ফিও আদায় করবে তেহরান।
• চীনের কাছ থেকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন:
বিশ্বমঞ্চে ওয়াশিংটনের একতরফা অবরোধ ও চাপ মোকাবিলার জন্য তেহরানের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ভরসা বেইজিং। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে চীনের জোরালো রাজনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করতেই হরমুজে তাদের জন্য অবাধ পথ খোলা রাখা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে জ্বালানি বাণিজ্যের স্বার্থ; কারণ হরমুজ দিয়ে পার হওয়া উপসাগরীয় তেলের প্রায় ৪২ শতাংশ একাই আমদানি করে চীন। এছাড়া চীনা বাণিজ্যিক জাহাজ থেকেও ফি পাবে ইরান।
• বিকল্প রাজস্ব ও ফি আদায়:
চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে থাকা ইরান হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো থেকে ‘ট্রানজিট ফি’ আদায়ের মাধ্যমে নতুন একটি আয়ের উৎস তৈরি করছে। যদিও কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনকারী জাহাজের জন্য কোনো ফি নেওয়া হচ্ছে না এবং ইরাকের ক্ষেত্রে ফি নেওয়ার বিষয়টি এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) যখন ইরানের উপকূলীয় সব বন্দরে কঠোর নৌ অবরোধ আরোপের চেষ্টা করছে, তখন এই চার দেশকে ছাড় দিয়ে মূলত অবরোধকে অকার্যকর করার এবং পণ্য বিনিময়ের মাধ্যমে অর্থনীতিকে সচল রাখার এক কৌশলী পথ বেছে নিয়েছে তেহরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ উপস্থিতি ও সংঘাতের ঝুঁকির মুখে ইরানের এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে কতটা সফল হবে, তা ওয়াশিংটনের প্রতিক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন




