বন্যার পানিতে ভেসে উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত পেরোল ১৫ মাইন

বন্যার পানিতে ভেসে উত্তর কোরিয়ার সীমান্ত পেরোল ১৫ মাইন
ছবি: সংগৃহীত।

বর্ষার ভারী বৃষ্টিতে আন্তঃকোরীয় সীমান্ত এলাকা থেকে ভেসে দক্ষিণ কোরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে আসা সন্দেহে ১৫টি স্থলমাইন উদ্ধার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী কাউন্টি গাংহওয়ার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান চোই ইয়ং-রান জানান, উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকা থেকে ‘উত্তর কোরিয়ার সন্দেহভাজন স্থলমাইন’ হিসেবে ১৫টি মাইন উদ্ধার করা হয়েছে। ২৩ জুলাই থেকে ৩ আগস্টের মধ্যে এগুলো পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বর্ষাকাল ও সাম্প্রতিক অতিভারী বৃষ্টির পানিতে মাইনগুলো ভেসে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার করা ১৫টি মাইনই নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ডিমিলিটারাইজড জোন বা ডিএমজেড উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়াকে বিভক্ত করেছে। এলাকাটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি স্থলমাইন পাতা অঞ্চলগুলোর একটি। ইয়োনহাপের উদ্ধৃত সামরিক তথ্য অনুযায়ী, ডিএমজেড ও এর আশপাশে আনুমানিক ৮ লাখ স্থলমাইন পুঁতে রাখা রয়েছে। এর বেশির ভাগই কোরীয় যুদ্ধের সময় পাতা হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও মাইন পাতা অব্যাহত রয়েছে।

গাংহওয়া একটি দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত কাউন্টি, যা উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্ত দিয়ে বিভক্ত হান নদীর মোহনায় অবস্থিত। গত মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছিল, ভারী বৃষ্টিতে সীমান্তবর্তী নদীগুলোতে বিস্ফোরক ভেসে গিয়ে নিম্নাঞ্চলে পৌঁছালে তা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে।

২০১৫ সালে পশ্চিমাঞ্চলীয় ডিএমজেডে টহল দেওয়ার সময় উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইনে গুরুতর আহত হয়ে দুই দক্ষিণ কোরীয় সেনা সদস্য পা হারিয়েছিলেন।

এ ঘটনার পর গত জুলাইয়ের শেষ দিকে গাংহওয়া কাউন্টি উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের উত্তর কোরিয়ার মাইনের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে। বুধবার স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, আরও মাইন ভেসে আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা পার্ক হিউং-ইয়োল বলেন, ২০১৫ সালের মাইন বিস্ফোরণের পর কিছু সময় পর্যটকের সংখ্যা কমে গিয়েছিল। এবারও স্থানীয়দের মধ্যে একই ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও প্রায় ৩০০ মানুষ হাতে ঝিনুক সংগ্রহ করেন। মাইনের ঝুঁকির কারণে তাদের এই কাজ বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে ভারী বৃষ্টিতে উত্তর কোরিয়াতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বিশেষায়িত সংবাদমাধ্যম এনকে প্রো জানিয়েছে, জুলাইয়ের শেষ দিকে একটি বাঁধ ধসে পড়ার পর সীমান্তবর্তী একটি বড় সামরিক ঘাঁটির শত শত বাড়ি বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অন্তত ৩৮০টি একতলা সারিবদ্ধ বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। ওই এলাকায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্টিলারি কমান্ডও রয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র: আল আরবিয়্যা

এমএমআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন