যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান প্রাইমারি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের কারণে বিতর্কিত মার্কিন কংগ্রেসম্যান অ্যান্ডি ওগলস। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন পেয়েও তিনি সাবেক টেনেসি কৃষি কমিশনার চার্লি হ্যাচারের কাছে হেরে যান।
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত প্রাইমারিতে প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে চার্লি হ্যাচার ৬ দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। এই ফলাফল রিপাবলিকান রাজনীতিতে একটি বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া প্রার্থীদের পরাজয় খুবই কম ঘটে।
২০২২ সালে প্রথমবার কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হওয়া ওগলস এবার নতুনভাবে পুনর্নির্ধারিত একটি কংগ্রেসনাল জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে টেনেসিতে নির্বাচনি সীমানা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছিল।
প্রাইমারিতে জয়ী চার্লি হ্যাচার আগামী নভেম্বরে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও কলাম্বিয়া শহরের মেয়র চ্যাজ মোল্ডারের মুখোমুখি হবেন। নির্বাচনের শেষ দিকে টেনেসির গভর্নর বিল লির সমর্থনও পান হ্যাচার। যদিও জেলাটি রিপাবলিকানদের জন্য অনুকূল হিসেবে বিবেচিত হয়, তবুও অর্থনৈতিক অসন্তোষ ও ইরান যুদ্ধ ইস্যুকে সামনে রেখে ডেমোক্র্যাটরা আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
অ্যান্ডি ওগলস দীর্ঘদিন ধরেই মুসলিমবিরোধী বক্তব্যের জন্য সমালোচিত। চলতি বছরের মার্চে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছিলেন, মুসলিমদের আমেরিকান সমাজে কোনো স্থান নেই। বহুত্ববাদ একটি মিথ্যা।
এর আগে ২০২৪ সালে ক্যাপিটল হিলে এক কর্মী তাকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত হামলায় নিহত ফিলিস্তিনি শিশুদের ভিডিও দেখেছেন কি না জানতে চাইলে ওগলস বলেন, আমার মনে হয়, তাদের সবাইকে হত্যা করা উচিত। তার এই মন্তব্য দেশজুড়ে তীব্র নিন্দা ও সমালোচনার জন্ম দেয়।
অন্যদিকে চার্লি হ্যাচার এর আগে প্রকাশ্যে ওগলসের মুসলিমবিরোধী বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম উইলিয়ামসন সিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মুসলিমদের মধ্যে অনেকেই মার্কিন নাগরিক, তারা আইন মেনে চলা ভালো মানুষ। এমনকি মার্কিন সেনাবাহিনীতেও মুসলিম সদস্য রয়েছেন, যারা দক্ষ ও সাহসী সৈনিক।
উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া দ্বিতীয় প্রার্থী হিসেবে প্রাইমারিতে পরাজিত হলেন অ্যান্ডি ওগলস। এর আগে মঙ্গলবার মিশিগানে ট্রাম্প-সমর্থিত নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য আমির হাসানও রিপাবলিকান প্রাইমারিতে পরাজিত হন।
যুক্তরাষ্ট্রে এখন মধ্যবর্তী নির্বাচনের (মিডটার্ম) প্রস্তুতি চলছে। অঙ্গরাজ্যভিত্তিক প্রাইমারির মাধ্যমে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলই তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করছে। আগামী নভেম্বরে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবগুলো এবং সিনেটের ১০০টির মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র: আল জাজিরা
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


