১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত পারমাণবিক বোমায় শহরটি প্রায় ধ্বংস হয়ে যায় এবং প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ নিহত হন। তিন দিন পর নাগাসাকিতে দ্বিতীয় বোমা হামলায় আরও প্রায় ৭০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। এরপর ১৫ আগস্ট জাপান আত্মসমর্পণ করলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসান ঘটে।
বর্তমানে জীবিত বোমা হামলার প্রত্যক্ষ বেঁচে থাকা মানুষের সংখ্যা কমে ৯১ হাজার ১০৫-এ নেমে এসেছে, যা মূল সংখ্যার চার ভাগের এক ভাড় মাত্র। তাদের গড় বয়স এখন ৮৬ বছরের বেশি। স্মৃতির ভার বহনকারী এই প্রজন্ম দ্রুত হারিয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই ভয়াবহতার স্মৃতি ম্লান হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।
বৃহস্পতিবার জাপানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হিরোশিমায় মার্কিন পারমাণবিক বোমা হামলার ৮১তম বার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে শহরটির মেয়র যুদ্ধ চালানোর জন্য প্রধান শক্তিগুলোর সমালোচনা করেছেন এবং প্রতিরোধের পদ্ধতি হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্র রাখার ন্যায্যতা প্রতিপাদন বন্ধ করার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
মেয়র কাজুমি মাতসুই বলেন, “পারমাণবিক অস্ত্রের অমানবিকতাকে খাটো করে দেখা এবং নিজেদের সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য শক্তি প্রয়োগ প্রতিশোধের চক্রের ঝুঁকি তৈরি করে, যার চূড়ান্ত পরিণতি হতে পারে আরেকটি হিরোশিমা বা নাগাসাকি।”
হিরোশিমা পিস মেমোরিয়াল পার্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেওয়া শান্তি ঘোষণায় মাতসুই বলেন, বহু রাজনৈতিক নেতা এখনও পারমাণবিক প্রতিরোধকে একটি বাস্তবসম্মত পন্থা হিসেবে বিবেচনা করেন এবং সহিংসতাকে বৈধতা দেন, যা “পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন বিশ্বকে কেবল আরও দূরে ঠেলে দেয়।” তিনি প্রত্যেক নাগরিককে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানসহ প্রায় ১২০টি দেশ ও অঞ্চলের প্রতিনিধিসহ প্রায় ৫০,০০০ মানুষের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। সকাল ৮:১৫ মিনিটে, যে সময়ে একটি মার্কিন বি-২৯ বিমান শহরটিতে বোমা ফেলেছিল, সেই সময়ে শান্তির ঘণ্টা বেজে ওঠার সাথে সাথে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো এই স্মরণসভায় যোগ দেওয়া সানায়ে তাকাইচি বলেন, জাতিসংঘের পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির কাঠামোর মধ্যে থেকে তিনি এমন একটি বিশ্ব অর্জনের জন্য “বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি” গ্রহণ করবেন যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র কখনও ব্যবহৃত হবে না।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


