বিশ্বের ভাসমান শহর বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ইতালির ভেনিস। শহরটির চারপাশে পানি থাকায় একে ডুবন্ত শহরও বলা যায়। কিন্তু এই শহরটির পানিও কমতে শুরু করেছে। গত শতাব্দীতে ভেনিসের পানিরস্তর কমেছে প্রায় ২৫ সেন্টিমিটার বা প্রায় ১০ ইঞ্চি। তবে ১৯০০ সাল থেকে এর গড় সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এক ফুট বেড়েছে। ফলে এই শহরটিতে বন্যার আশঙ্কা বেড়েছে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে পর্যটক শিল্পের ওপর। কারণ এই শহরটি মূলত পর্যটননির্ভর। সারা বছরই এখানে লেগে থাকে পর্যটকদের আনাগোনা। কিন্তু নিয়মিত বন্যার আশঙ্কা সেই খাতকে রীতিমত ধাক্কা দিতে পারে। তাই এখনই এর প্রতিকার জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পানিবেষ্টিত হওয়ায় এই শহরটি এমনিতেই শত্রুর আক্রমণের কবলমুক্ত। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন সেই আশঙ্কায় ফেলেছে ভেনিসবাসীকে। জলবায়ু সংকট তীব্র হওয়াও বেড়েছে জোয়ারের উচ্চতা এবং পরিমাণ। যদিও উচ্চ জোয়ারের হাত থেকে ভেনিসকে বাঁচাতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে ইতালির সরকার। আর এজন্য প্রতি বছর লাখ লাখ ইউরো ব্যয় করছে তারা। কারণ অনেক জলবায়ু বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ২১০০ সালের মধ্যে পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে ইতালির স্বপ্নের শহর ভেনিস। তবে শহরটিকে বাঁচিয়ে রাখতে অনেক কিছু করা যেতে পারে বলেও জানিয়েছেন তারা।
ভেনিস ডুবে যাওয়ার অন্যতম কারণ, এর চারপাশ পানি দিয়ে বেষ্টিত হওয়ায় ভবনগুলোর অত্যধিক ওজনের কারণে এটি ধীরে ধীরে নিচে চলে যাচ্ছে। এছাড়া রয়েছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি। পাডুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবিদ্যা এবং জলবিদ্যুৎ প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পিয়েত্রো টিয়াটিনি বলেছেন, ভেনিসকে বাঁচানোর অন্যতম চাবিকাঠি হতে পারে শহরের নিচের মাটিতে পানি পাম্প করলে এর স্তর উঁচু হয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের সমান হবে। তখন শহরটি একটু উঁচু হবে, তবে এতে ভবনগুলো ধসে বা হেলে পড়ার তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে।
টিয়াটিনি বলেন, তার পরিকল্পনা ভেনিসকে প্রায় ৫০ বছরের জন্য ডুবে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে পারবে। এর সঙ্গে যুক্ত করা হবে বর্তমান বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ বিভিন্ন প্রকল্প। ইতোমধ্যেই বন্যা রোধ করতে ভেনিসের চারপাশে প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ স্থাপন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এর একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে পাবে সরকার। তার ধারণা এই ব্যবস্থা শহরকে ৩০ সেন্টিমিটার বা প্রায় ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত উঁচু করতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

