গাজা সম্পর্কিত সরকারি বিবৃতি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইসরাইল-ফিলিস্তিন বিষয়ক শীর্ষ প্রেস অফিসার শাহেদ ঘোরেইশিকে বরখাস্ত করেছে। দপ্তরটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিষয়টি মূলত অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার অংশ।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক গণমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা উপত্যকা থেকে লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনিকে স্থানান্তরের বিতর্কিত প্রস্তাবকে ঘিরে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির ভাষা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। ঘোরেইশি এক বিবৃতিতে লিখেছিলেন: “আমরা গাজায় ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি সমর্থন করি না।” তবে দপ্তর তা বাতিল করে দেন এবং ভাষাটি মুছে ফেলতে নির্দেশ দেন।
ঘোরেইশি দাবি করেন, তার প্রস্তাবিত ভাষা ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আগের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি মাত্র।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, সহকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও তিনি এই দ্বন্দ্ব এড়াতে পারেননি। এর আগে ১০ আগস্ট গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহত আল জাজিরার সাংবাদিক আনাস আল-শরিফসহ অন্য সাংবাদিকদের প্রতি শোক প্রকাশের প্রস্তাবও দপ্তরের নেতৃত্ব প্রত্যাখ্যান করে।
এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উপ-মুখপাত্র টমি পিগট প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “গোপনীয় তথ্য বা ইমেল ফাঁসের ব্যাপারে আমাদের শূন্য সহনশীলতা রয়েছে। ফেডারেল কর্মচারীরা কখনোই ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতাদর্শকে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির এজেন্ডার আগে রাখতে পারেন না।”
এ ঘটনায় মার্কিন প্রশাসনের গাজা নীতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠন ও সমালোচকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে ইসরাইলকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিচ্ছে, অন্যদিকে গাজার বেসামরিক জনগণের দুর্ভোগকে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাদের মতে, ভিন্নমত দমন করে পররাষ্ট্র দপ্তর কেবল অভ্যন্তরীণ সংকট বাড়াচ্ছে না, বরং বাইরের দুনিয়ার কাছেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে আরও বিতর্কিত করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের দাবি, গাজা ইস্যুতে মার্কিন নীতির ভেতরে বিরোধ বাড়তে থাকলে তা ভবিষ্যতে প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক চাপও তৈরি করতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

