কাশ্মীরে বন্দুকধারীদের হামলার পর পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি হয়েছে। উভয় দেশই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নিয়েছে। ভারত সিন্ধু নদের পানি চুক্তি বাতিল করেছে। দুই দেশেই চলছে চরম উত্তেজনা। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শুক্রবার গণমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড কোঅপারেশনের গবেষক আর্জান তারাপোর দুই দেশের সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদি রাজনৈতিক চাপের মুখে শক্তিশালী প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেন। তবে বিষয়টা এভাবে বলা অনেকটা অর্থহীন। সময়ই আমাদের বলে দেবে তারা আসলে কি করতে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তবে আমি মনে করি ২০১৯ সালের বালাকোট সংকট আমাদের কিছু ইঙ্গিত দিতে পারে কীভাবে ভারতের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তিনি এখানে কাশ্মীরের ভারত-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে ভারতীয় বাহিনীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার কথা উল্লেখ করছেন, যেখানে অন্তত ৪০ জন আধাসামরিক কর্মী নিহত হয়েছিল। দিল্লি ওই ঘটনার জবাবে পাকিস্তানে বিমান হামলা চালিয়েছিল—১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর এই প্রথমবার পাকিস্তানের ভূখণ্ডে এমন হামলা চালানো হয়।
গবেষক আরও বলেন, মূল প্রশ্ন হলো—তারা কী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ওপর আরও কার্যকর, স্পষ্ট প্রভাব ফেলতে চায়, যেমন তাদের নেতৃত্ব বা সদর দপ্তরে হামলা করে? নাকি ভারত আরও একধাপ এগিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ওপর সরাসরি হামলার সিদ্ধান্ত নেবে?
এদিকে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত যদি পাকিস্তানের পানির প্রবাহ থামাতে কোনো বাঁধ নির্মাণ করে, তাহলে পাকিস্তান সেই স্থাপনাগুলো “পুরো যুদ্ধ শক্তি দিয়ে ধ্বংস করে দেবে”। কেউ কেউ বলছেন, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতিতে “সম্পূর্ণ জাতীয় শক্তির ব্যবহার” কথাটির অর্থ—পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
একজন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক বলছেন, যদি ভারত কোনো বাঁধ তৈরি করে যা পাকিস্তানের পানির অধিকার হরণ করে, তাহলে পাকিস্তান সামরিক শক্তি দিয়ে তা ধ্বংস করবে—এমনকি তা পরমাণু হামলা করে হলেও।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

