যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশকারী সব ধরণের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণার মধ্যমে ঐতিহাসিক বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কানাডা, মেক্সিকো, চীন ও ভারতের পর এবার বাংলাদেশের ওপরও আরোপ করেছেন ৩৭ শতাংশ শুল্ক। এই তালিকায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশও। এক হিসেবে পূর্ব, পশ্চিমের বহু দেশেই নেমে এসেছে ট্রাম্পের শুল্কের খড়গ।
ট্রাম্পের এই শুল্কারোপ ‘বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা’ বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন। চীনসহ আরো বেশ কয়েকটি দেশের নেতারাও একই মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে এক বিবৃতিতে উরসুলা বলেন, নতুন কর আমদানির ওপর "অনিশ্চয়তাকে আরো জটিল করে তুলবে। যা ’বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষের জন্য’ ’ভয়াবহ পরিণতি’ বয়ে আনবে।
তিনি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলির ওপর এর প্রভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে তার ওপর জোর দিয়েছেন। কারণ এসব দেশগুলোর মধ্যে কয়েকটি দেশ এখন সর্বোচ্চ শুল্কের আওতায় রয়েছে।
উরসুলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে ইউরোপ একটি ঐক্যবদ্ধ পদ্ধতি গ্রহণ করবে। তাই ২০ শতাংশ শুল্কারোপ নিয়ে আলোচনায় বসবে তারা। এই আলোচনা ব্যর্থ হলে পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। কারণ ইইউ’র একটি নয় বরং সব দেশের ওপর থেকেই শুল্ক কমাতে হবে ট্রাম্পকে। আর এনিয়ে ইইউ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আগোমী সপ্তাহে আলোচনা শুরু হবে। এমনটাই জানিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান বার্ন্ড ল্যাঞ্জ।

৫ এপ্রিল থেকে আমেরিকার যেসব পণ্য আমদানি করবে তার ওপর সার্বজনীন হারে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেঠেন ট্রাম্প। ৯ এপ্রিল থেকে বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশ উচ্চ মূল্যের শুল্কের মুখোমুখি হবে।
ট্রাম্পের মতে, তার নেওয়া এমন পদক্ষেপ তার দেশের সঙ্গে হওয়া ‘অন্যায্য বাণিজ্য নীতি’র প্রতিশোধ। তিনি আরো বলেন, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি যথেষ্ট সদয় ছিলেন।
বুধবার এমন সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর ট্রাম্প বলেন, শুল্কারোপের ফলে এদেশের উৎপাদন বাড়বে, কমবে আমদানি নির্ভরতা। যা আমেরিকাকে আরো ধনী করবে।
এদিকে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর উচ্চ আমদানি শুল্ক আরোপ করায় মার্কিন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজসহ বিশ্বনেতারা।কিছু দেশ পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ারও কথা জানিয়েছে। তবে তাদের আশা, এ বিষয়টি নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য হোয়াইট হাউস উন্মুক্ত থাকবে।
ট্রাম্পের মিত্র ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ট্রাম্পের ২০ শতাংশ কর আরোপের সিদ্ধান্তটি ’ভুল’ ছিল। এটি বিশ্বকে বাণিজ্য যুদ্ধের দিকে এগিয়ে নেবে। তাই ’বাণিজ্য যুদ্ধ রোধ’ করতে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসবেন তারা।
অন্যদিকে, আলবানিজ বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ আমদানি কর একেবারেই ‘অযৌক্তিক’। তার স্প্যানিশ প্রতিপক্ষ পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, স্পেন ‘একটি উন্মুক্ত বিশ্বের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে’, অন্যদিকে আয়ারল্যান্ডে সরকার প্রধান মাইকেল মার্টিন বলেছেন, ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্ত "অত্যন্ত দুঃখজনক" যা কারো জন্যই উপকারী নয়। আর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্র্যোঁ বৃহস্পতিবার এলিসি প্রাসাদে নতুন করের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়িক খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করবেন। সরকারি মুখপাত্র সোফি প্রাইমাস বলেছেন, ফ্রান্স "এই বাণিজ্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত"।
এদিকে ইইউ’র বাইরে চীনের ওপর সবচেয়ে বেশি শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। ৩৪ শতাংশ কর বসানো হয়েছে চীনের ওপর। আগের ২০ শতাংশের সঙ্গে বর্তমান মিলিয়ে মোট ৫৪ শতাংশ করারোপ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় আমেরিকাকে অবিলম্বে তার সর্বশেষ শুল্ক বাতিল করার আহ্বান জানিয়েছে চীন। এবং নিজস্ব স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিগুলিকে আরও গভীর বাণিজ্য যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার হুমকি দিয়েছে যা বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলকে উল্টে দিতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


