ভারত-শাসিত কাশ্মীরে সশস্ত্র হামলায় প্রাণ হারান ২৬ পর্যটক। আহত হন আরো কজন। এ হামলার পুরো দায়ভার পাকিস্তানের ওপর চাপিয়ে দেয় ভারত। ফলে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সৃষ্টি হয় উত্তেজনা। ভারত এরই মধ্যে সিন্ধু নদের পানি স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে। একইসঙ্গে তারা পাকিস্তানিদের ভিসা বাতিল, সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ এবং ভারত থেকে পাকিস্তানি দূতাবাসের সামরিক কর্মকর্তাদের বহিষ্কার করেছে।
এসব ছাড়াও নির্বিচারে আটক করেছে কমপক্ষে ১৫০০ কাশ্মীরিকে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অনেকের বাড়ি। ভারতের অভিযোগ, ভয়াবহ এই হামলার পেছনে রয়েছে পাকিস্তান। কারণ, হামলার দায় স্বীকারকারী গোষ্ঠী পাক সেনাবাহিনীর মদতপুষ্ট। কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে পরমাণু ক্ষমতাধর দুই দেশেরই।
হামলার দুদিন পর বৃহস্পতিবার রাতে ভারতীয় পুলিশ অভিযান শুরু করে কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায়। একে একে গুঁড়িয়ে দেয় তিন সন্দেহভাজনের বাড়ি। শনিবার ভোরেও হামলাকারী সন্দেহে এক কাশ্মীরির বাড়িতে বিস্ফোরক দিয়ে তা ধ্বংস করে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী।
সন্দেহের তালিকায় থাকা আদিল থোকারের বাড়িতে শুক্রবার বিস্ফোরণ ঘটায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। সে সময় থোকারের মা ও প্রতিবেশীদের প্রায় ১০০ মিটার দূরে সরিয়ে নেওয়া হয়। আটক করা হয় আদিলের বাবা, ভাই ও দুই চাচাতো ভাইকে।
কাশ্মীরের ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল কনফারেন্স পার্টির সংসদ সদস্য রুহুল্লাহ মেহেদি বলেছেন, ঘরবাড়ি ভাঙার কাজগুলো ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীই করেছে। অন্যথায় কারোই এমন সাহস হবে না এখানে এসে এ ধরনের কাজ করা।
এদিকে ভারতের অভিযোগ অস্বীকার করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ২২ এপ্রিল আলপাইন তৃণভূমিতে চালানো ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো যোগসূত্র নেই। ভারত কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই তাদের ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা করছে। এ হামলায় শুধু হিন্দু পুরুষ পর্যটকদের গুলি করে হত্যা করে বন্দুকধারীরা। এ ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তে পাকিস্তান সব ধরনের সহায়তা করবে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
ভারতের মতো একই পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। তারাও আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য স্থগিত এবং ভারতীয় বিমানের জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

