হরমুজে ৯ দিনে ১১ তেলবাহী জাহাজে আগুন, দাবি ইরানের

হরমুজে ৯ দিনে ১১ তেলবাহী জাহাজে আগুন, দাবি ইরানের

হরমুজ প্রণালিতে গত নয় দিনে ১১টি তেলবাহী জাহাজে আগুন লাগার দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দাবি করছে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের প্রধান চলাচল রুটগুলো এখনো জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ ও উন্মুক্ত রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে আইআরআইবি জানায়, গত ২৫ অক্টোবর থেকে পরবর্তী নয় দিনে হরমুজ প্রণালিতে ১১টি তেলবাহী জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি জাহাজ সমুদ্রের গভীরে ডুবে গেছে বলেও দাবি করেছে সম্প্রচারমাধ্যমটি।

এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির প্রধান নৌপথগুলো জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও নিরাপদ রয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, সপ্তাহের শুরুতে প্রণালির ওপর দিয়ে উড্ডয়নের সময় সেখানে ইরানের নৌবাহিনীর কোনো জাহাজ দেখতে পাননি।

তবে একই দিন যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনীর মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার জানায়, শুধু অক্টোবর মাসেই বাণিজ্যিক জাহাজে ৩০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার এটি রেকর্ডসংখ্যক ঘটনা।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে ইরান। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে তেহরান। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাঞ্চলীয় নৌপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারছে।

তবে ইরানের অব্যাহত হুমকি ও জাহাজে হামলার আশঙ্কায় গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচলের ঝুঁকি ও পরিবহন ব্যয় বেড়েই চলেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হচ্ছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের দামের ওপর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাচ্ছে তেহরান।

সূত্র: সিবিএস নিউজ

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন