জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের দৌড়ে থাকা ছয় প্রার্থী বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক সাধারণ পরিষদ হলে টেলিভিশন বিতর্কে অংশ নেবেন। বিদায়ী মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উত্তরসূরি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরুর এক সপ্তাহ আগে এই বিতর্ক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মহাসচিব পদে প্রার্থীদের মধ্যে এখনো কোনো “স্পষ্ট ফেভারিট” তৈরি হয়নি এবং নির্বাচনী প্রচারণাতেও তেমন উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে না। প্রার্থীরা ৯০ মিনিটের এই অনুষ্ঠানে কূটনীতিক, জাতিসংঘের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী রাতের দিকে সম্প্রচারিত হবে এবং ব্লুমবার্গ এটি প্রচার করবে।
জাতিসংঘের মহাসচিব পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—
চিলির মিশেল ব্যাচেলেট
ইকুয়েডরের মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা
আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসি
কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান
গায়ানার ক্যারোলিন রদ্রিগেস-বিরকেট
সেনেগালের মাকি সাল
তাঁরা বিদায়ী মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য লড়ছেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক বলেন, এই আলোচনা বিশ্বজুড়ে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা প্রার্থীদের চিন্তাভাবনা, অগ্রাধিকার এবং নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি জানার একটি বিরল সুযোগ তৈরি করবে।
তিনি বলেন, “ক্রমেই বিভক্ত হয়ে পড়া বিশ্বে জাতিসংঘের শুধু একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী একটি কার্যকর প্রশাসকই প্রয়োজন নয়, বরং এমন একজন নেতার প্রয়োজন যিনি জাতিসংঘ সনদ এবং এর তিনটি মূল ভিত্তি রক্ষায় দৃঢ় ভূমিকা রাখবেন।”
বর্তমানে জাতিসংঘ গভীর আর্থিক ও আস্থার সংকটের মুখোমুখি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অভিযোগ করেছে, জাতিসংঘ অতিরিক্ত ব্যয় করছে, অতিরিক্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘকে শান্তি ও নিরাপত্তার মূল লক্ষ্যগুলোর দিকে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, বিশ্বের অনেক দেশ মানবাধিকার ও উন্নয়নকেও জাতিসংঘের সমান গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছে।
প্রচারণায় সতর্ক প্রার্থীরা
আন্তর্জাতিক সংকট বিশ্লেষণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষক রিচার্ড গোয়ান বলেন, ২০১৬ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবারের প্রতিযোগিতায় তেমন প্রাণচাঞ্চল্য নেই। ওই নির্বাচনে বেশি প্রার্থী ও নানা নাটকীয়তার পর শেষ পর্যন্ত গুতেরেস নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তিনি বলেন, “এবার সবাই একমত যে জাতিসংঘের ভবিষ্যতের জন্য এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রসহ ভেটো ক্ষমতাধর দেশগুলোকে অসন্তুষ্ট না করতে খুব সতর্কভাবে এগোচ্ছেন।”
এর আগে ছয় প্রার্থী জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সামনে তিন ঘণ্টা করে প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন। অধিকাংশ প্রার্থী জাতিসংঘের চলমান সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, সংস্থাটিকে আরও কার্যকর করা এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় মহাসচিবের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
আগামী ৩০ জুলাই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য প্রথমবারের মতো গোপন ভোটে প্রার্থীদের পছন্দের তালিকা তৈরি করবে। এই প্রাথমিক ভোটের পর আরও কয়েক দফা ভোট হতে পারে।
নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের কারও ভেটো ছাড়াই কোনো প্রার্থীকে অন্তত নয়টি ভোট পেতে হবে। এরপর নির্বাচিত প্রার্থীর নাম সাধারণ পরিষদে পাঠানো হবে আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য।
নতুন মহাসচিব ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে আর্জেন্টিনার রাফায়েল গ্রোসিকে অনেকেই এগিয়ে থাকা প্রার্থী হিসেবে দেখছেন। তবে কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান এবং গায়ানার ক্যারোলিন রদ্রিগেস-বিরকেটেরও উল্লেখযোগ্য সমর্থন রয়েছে। শেষ পর্যন্ত নতুন কোনো প্রার্থীও আলোচনায় উঠে আসতে পারেন বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
জাতিসংঘের করিডোর ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আরও কিছু নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর নামও উল্লেখ করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে জাতিসংঘের নেতৃত্বে দেখতে আগ্রহী হতে পারেন।
ভৌগোলিক পালাবদলের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী (যদিও এটি সব সময় অনুসরণ করা হয় না), এবার লাতিন আমেরিকা থেকে মহাসচিব নির্বাচনের দাবি জোরালো হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অনেক দেশ প্রথমবারের মতো একজন নারীকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দেখতে চায়।
সূত্র: এএফপি
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


