বিশ্বের সবচেয়ে বড় শেয়ারবাজার অভিষেকের (আইপিও) ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে ইলন মাস্কের রকেট কোম্পানি স্পেসএক্স। প্রতিষ্ঠানটি তাদের ব্লকবাস্টার ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং বা আইপিওতে প্রায় ১ লাখ ৭৭ হাজার কোটি ডলার বাজার মূল্যায়ন অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
গতকাল বুধবার মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কাছে জমা দেওয়া এক নথিতে স্পেসএক্স জানিয়েছে, তারা প্রতি শেয়ার ১৩৫ ডলার মূল্যে ৫৫ কোটি ৫৬ লাখ শেয়ার বিক্রি করার পরিকল্পনা করছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করা হবে।
এই চোখ ধাঁধানো বাজার মূল্যায়নের ফলে স্পেসএক্স বাজার মূলধনের দিক থেকে ইলন মাস্কের ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্ট মেটাকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম কোম্পানিতে পরিণত হবে, যা তাইওয়ানিজ চিপমেকার টিএসএমসির ঠিক পেছনে অবস্থান করবে। একই সঙ্গে এটি জ্বালানি জায়ান্ট সৌদি আরামকোর ২০১৯ সালের আইপিও অভিষেকের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে, যা ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে ২৬ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছিল।
স্পেসএক্সে প্রায় ৪২ শতাংশ শেয়ারের মালিক ইলন মাস্ক আগামী সপ্তাহে এই আইপিও চালুর পর বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নেয়ার হতে চলেছেন। আগামী ১২ জুন থেকে নিউইয়র্কভিত্তিক নাসডাক স্টক এক্সচেঞ্জে স্পেসএক্সের শেয়ার লেনদেন শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পাবলিক লিস্টিং বা শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও স্পেসএক্সের ওপর মাস্কের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। দ্বৈত-শ্রেণির (ডুয়াল-ক্লাস) স্টক কাঠামোর কারণে তিনি ৮২ শতাংশের বেশি ভোটিং অধিকার নিজের কাছে রাখবেন, যেখানে নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারের ক্ষেত্রে একটির পরিবর্তে ১০টি ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
আইপিওর আগে টেক্সাসভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট শেয়ার মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তটি প্রচলিত নিয়মের বাইরে একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। সাধারণত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে যাওয়া কোম্পানিগুলো প্রথমে একটি প্রাথমিক মূল্যসীমা বা প্রাইস রেঞ্জ ঘোষণা করে, যা পরবর্তীতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের ওপর ভিত্তি করে সমন্বয় করা হয়।
২০০২ সালে ইলন মাস্ক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত স্পেসএক্স মূলত নাসা এবং বেসরকারি কোম্পানিগুলোর পক্ষে রকেট, মহাকাশযান এবং পুনব্যবহারযোগ্য উৎক্ষেপণ যান ডিজাইন ও উৎক্ষেপণের জন্য পরিচিত। এছাড়া কোম্পানিটি তার স্টারলিংক এবং এক্সএআই বিভাগের মাধ্যমে ইন্টারনেট পরিষেবা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল সরবরাহ করে থাকে। মঙ্গল গ্রহে একটি ‘স্বনির্ভর’ শহর প্রতিষ্ঠা করা এবং জীবনকে বহুমাত্রিক করা মাস্কের অন্যতম লক্ষ্য।
তবে স্পেসএক্সের এই লিস্টিংটি মাস্কের রূপকল্পের ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থার একটি বড় পরীক্ষা হবে, কারণ কোম্পানিটি এখনো লাভের মুখ দেখেনি। স্পেসএক্স ২০২৫ সালে ১৮.৭ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয়ের বিপরীতে ৪.৯ বিলিয়ন ডলার নিট লোকসান রিপোর্ট করেছে, যার পর চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (কিউ১) আরো ৪.৩ বিলিয়ন ডলার লোকসান হয়েছে।
স্পেসএক্সের এই বিশাল আইপিওর পাশাপাশি চলতি বছরে এআই স্টার্টআপ ‘ওপেনএআই’ এবং ‘অ্যানথ্রোপিক’-এর আরো দুটি মেগা-আইপিও আসার কথা রয়েছে, যা মার্কিন শেয়ারবাজারে ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্য যুক্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


