ঘূর্ণিঝড় ‘লালা’র আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে জরুরি অবস্থা

ঘূর্ণিঝড় ‘লালা’র আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াইয়ে জরুরি অবস্থা
ছবি: সংগৃহীত।

গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় ‘লালা’ মোকাবিলায় প্রস্তুতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ঝড়টি সপ্তাহান্তে তীব্র বাতাস, বন্যা ও ভূমিধসের কারণ হতে পারে।

জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থানরত ঝড়টি বর্তমানে আরো শক্তিশালী হচ্ছে। হাওয়াই অঙ্গরাজ্যের বিগ আইল্যান্ডের কাছে পৌঁছানোর সময় এটি হারিকেনে রূপ নিতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে ঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৫০ মাইল (৮০ কিলোমিটার)। তবে দমকা বাতাসের গতি আরো বেশি।

আবহাওয়া দপ্তর আরো জানিয়েছে, বিগ আইল্যান্ডের কোনো কোনো এলাকায় ঝড়টির প্রভাবে ২৫ ইঞ্চি (৬৩ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার) পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে।

ঝড়ের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় হাওয়াইয়ের গভর্নর জশ গ্রিন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। এর ফলে প্রয়োজন হলে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় দ্রুত অর্থ, সরঞ্জাম ও জনবল ব্যবহারের পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

গভর্নর গ্রিন বলেন, ‘গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় লালা আমাদের অঙ্গরাজ্যের জন্য, বিশেষ করে হাওয়াই দ্বীপের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করেছে। প্রয়োজনীয় জায়গায় যাতে দ্রুত সম্পদ ও সহায়তা পৌঁছানো যায়, সেজন্য আমরা এখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সবাইকে নিজ নিজ বাড়িঘর নিরাপদ করার, প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহের, পরিবারের জরুরি পরিকল্পনা পর্যালোচনা করার এবং নির্ভরযোগ্য সরকারি সূত্রের সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করার আহ্বান জানাচ্ছি। এই ঝড়কে গুরুত্বের সঙ্গে নিন এবং একে অন্যের খোঁজখবর রাখুন।’

প্রায় দুই লাখ ১০ হাজার মানুষের বসবাস হাওয়াই দ্বীপে। জনসংখ্যার দিক থেকে এটি হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ। সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যা ওহাউ দ্বীপে, যেখানে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বসবাস করে।

ঝড়টি ঠিক কোন পথে এগোবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি উপকূলের কাছাকাছি সমুদ্রে অবস্থান করতে পারে।

২০১৮ সালের পর হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে সরাসরি আঘাত হানা কোনো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় এটিই প্রথম হতে পারে।

এ বছর এল নিনো আবহাওয়াজনিত ঘটনা বিশেষভাবে শক্তিশালী। এর ফলে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা বাড়ছে এবং ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা এ অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি সক্রিয় হারিকেন মৌসুমের পূর্বাভাস দিয়েছেন।

বিজ্ঞানীরা নিয়মিত সতর্ক করে আসছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলোর ঘনত্ব ও তীব্রতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সূত্র: বাসস

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন