দুর্ভোগে মার্কিন নৌসেনারা, পেন্টাগনের কাছে জবাব চাইলেন সিনেটর

দুর্ভোগে মার্কিন নৌসেনারা, পেন্টাগনের কাছে জবাব চাইলেন সিনেটর
ছবি: সংগৃহীত।

দীর্ঘ ২৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে সাগরে অবস্থান করা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের নাবিকদের জীবনযাপন ও কাজের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সচিব হাং কাওয়ের কাছে জবাব চেয়েছেন মার্কিন সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল। খবর আনাদোলুর।

বিজ্ঞাপন

সিনেট আর্মড সার্ভিসেস কমিটির সদস্য ব্লুমেনথাল বুধবার এক চিঠিতে জানান, রণতরীটিতে মৌলিক সরঞ্জামের ঘাটতি, পানিদূষণ, প্লাম্বিং সমস্যা, নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি, ডেকে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ডাকব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্নের খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে রণতরীটির উদ্দেশে পাঠানো অনেক কেয়ার প্যাকেজ মাসের পর মাস পথে হারিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ব্লুমেনথাল জানান, ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো নৌঘাঁটি থেকে যাত্রা করে। প্রাথমিকভাবে সাত মাসের জন্য এই মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং মে মাসে রণতরীটির ফেরার কথা ছিল। তবে পরে এর মোতায়েনের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এখন পর্যন্ত ফেরার কোনো তারিখ প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।

সিনেটরের দাবি, রণতরীটি টানা ২০০ দিনেরও বেশি সময় কোনো বন্দরে না থেমে সাগরে রয়েছে, যা ধারাবাহিকভাবে সাগরে থাকার ক্ষেত্রে একটি রেকর্ড।

দীর্ঘমেয়াদি এই মোতায়েনের কারণে মার্কিন নৌবাহিনী একই সঙ্গে বিমানবাহী রণতরীগুলোর ওপর বাড়তে থাকা অভিযানের চাপ সামলানো, নাবিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা, সরঞ্জামের প্রস্তুতি বজায় রাখা এবং নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে কি না—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ব্লুমেনথাল বলেন, এসব অভিযোগের দ্রুত তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরীগুলোকে যে মাত্রার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদে সেই অভিযানিক গতি বজায় রাখা সম্ভব কি না।

ইরানকে ঘিরে চলমান মার্কিন সামরিক অভিযান এবং ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি আরও দীর্ঘ হতে পারে—এমন পরিস্থিতিতে লিঙ্কনের দীর্ঘ মোতায়েনকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রশাসন যদি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান বা ওই অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরীর বাড়তি উপস্থিতি বজায় রাখতে চায়, তাহলে বর্তমান সামরিক চাহিদা যাতে ভবিষ্যতে নৌবাহিনীর প্রস্তুতিতে সংকট তৈরি না করে, তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে—তার ব্যাখ্যা দিতে হবে।

এ ছাড়া দীর্ঘ সময় মোতায়েন থাকলে বিমানবাহী রণতরীতে কাজের অন্তর্নিহিত ঝুঁকিও বাড়ে বলে সতর্ক করেন ব্লুমেনথাল। নাবিকদের জেট ইঞ্জিন, জ্বালানি, অস্ত্র, ভারী যন্ত্রপাতি ও বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার আশপাশে কাজ করতে হয়। এর সঙ্গে শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকিও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এমএমআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন