প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা জোরদার করতে ফ্রান্সের সঙ্গে নতুন সমঝোতায় পৌঁছেছে ইন্দোনেশিয়া । জাকার্তা জানিয়েছে, প্যারিসে দুই দেশের রাষ্ট্রপতির বৈঠকের পর প্রতিরক্ষা খাতে প্রযুক্তি, সরঞ্জাম ক্রয় এবং শিল্প উন্নয়ন আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠক করেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় প্যারিসের এলিসি প্রাসাদে। সেখানে দুই নেতা কৌশলগত সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা শিল্প শক্তিশালী করা এবং জ্বালানি রূপান্তর নিয়ে আলোচনা করেন।
ইন্দোনেশিয়ার সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় ও স্থানীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি এই সহযোগিতার মূল লক্ষ্য। ফ্রান্সকে ইউরোপে ইন্দোনেশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ক্রেমলিনে বৈঠক করেন প্রাবোও সুবিয়ান্তো। ওই বৈঠকে জ্বালানি, খনিজ সম্পদ এবং জাতীয় শিল্প উন্নয়ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় আলোচনা হয়।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী শাফ্রি শামসুদ্দিন “মেজর ডিফেন্স কোঅপারেশন পার্টনারশিপ” নিয়ে আলোচনা করেন।
ইন্দোনেশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্সের কাছ থেকে বড় ধরনের অস্ত্র ক্রয় করে আসছে। এর মধ্যে ২০২২ সালে ৪২টি দাসো রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার ৮.১ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি অন্যতম।
বিশ্লেষকদের মতে, মালাক্কা প্রণালী—বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জ্বালানি পরিবহন পথ—ইন্দোনেশিয়ার কৌশলগত অবস্থানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এই পথ দিয়েই চীনের দিকে অধিকাংশ তেল পরিবহন হয় বলে ধারণা করা হয়।
ইন্দোনেশিয়া সম্প্রতি ব্রিকস অর্থনৈতিক জোটে যোগ দিয়েছে এবং একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার এই বহুমুখী কূটনৈতিক পদক্ষেপ দেশটির দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক কৌশলকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

