ইন্দোনেশিয়ায় শিশুসহ ১২ নাগরিক হত্যার ঘটনায় মানবাধিকার সংস্থার তদন্ত

আমার দেশ অনলাইন

ইন্দোনেশিয়ায় শিশুসহ ১২ নাগরিক হত্যার ঘটনায় মানবাধিকার সংস্থার তদন্ত

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আজ জানিয়েছে, তারা দেশটির অশান্ত পূর্বাঞ্চলীয় পাপুয়া অঞ্চলে একটি সামরিক অভিযানে নারী ও শিশুসহ ১২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনা তদন্ত করছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

বিজ্ঞাপন

কমনাস এইচএএম নামে পরিচিত এই কমিশন জানিয়েছে, মঙ্গলবার মধ্য পাপুয়ার কেমব্রু গ্রামে টিপিএনপিবি-ওপিএম বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর একটি ‘আইন প্রয়োগ অভিযানে’ গুলিতে অন্তত ১২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।

এ ছাড়াও এই ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছে।

কমিশনের প্রধান অনিস হিদায়াহ আজ এএফপিকে জানান, তারা ঘটনাটির ‘তদন্ত’ চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনীর সদস্যরা এর জন্য দায়ী এমন ‘জোরালো সন্দেহ’ রয়েছে।

সেনাবাহিনী এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

স্থানীয় গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, পাপুয়ায় সেনাবাহিনীর হাবেমা টাস্ক ফোর্স জানিয়েছে যে কেমব্রুতে ‘সশস্ত্র সংঘর্ষে’ তারা স্বাধীনতাপন্থী গেরিলা আন্দোলনের চার সদস্যকে হত্যা করেছে এবং তারা অন্য একটি গ্রামে এক শিশুর ওপর প্রাণঘাতী গুলিবর্ষণের ঘটনাও তদন্ত করছে।

ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অংশ হলেও স্বাধীনভাবে কাজ করা কমনাস এইচএএম বলেছে, যে কোনো অভিযানে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটে তা ‘কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’।

কমিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘যুদ্ধ পরিস্থিতি হোক বা অন্য যে কোনো পরিস্থিতি এবং তা রাষ্ট্রীয় বা অন্য পক্ষ দ্বারা সংঘটিত হোক, বেসামরিকদের ওপর যে কোনো আক্রমণ মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন।’

কমিশন সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে এবং পাপুয়া বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পুনর্বিবেচনার জন্য সেনাবাহিনীকে অনুরোধ করেছে।

পাপুয়া, যার মূল দ্বীপটি পাপুয়া নিউ গিনির সাথে ভাগ করা। এটি সাবেক ডাচ উপনিবেশ, যা ১৯৬১ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

তবে ইন্দোনেশিয়া দুই বছর পর অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর ১৯৬৯ সালে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রায় ৮ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে মাত্র ১ হাজার পাপুয়ান ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে ভোট দেন।

পাপুয়া স্বাধীনতাপন্থী কর্মীরা নিয়মিতভাবে ওই ভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করে নতুন গণভোটের দাবি জানায়, যা জাকার্তা সরকার প্রত্যাখ্যান করে আসছেÑ কারণ জাতিসংঘ ওই অঞ্চলে ইন্দোনেশিয়ার সার্বভৌমত্ব স্বীকৃতি দিয়েছে।

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন