ভারতের বিখ্যাত রামমন্দিরের ভক্তদের দেওয়া অনুদানের অর্থ চুরির ঘটনা তদন্ত করছে দেশটির পুলিশ। এ ঘটনা ধর্মীয় স্থানগুলোর বিশাল অঙ্কের অর্থ ও স্বর্ণ ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
গত জুনে পুলিশ এই তদন্ত শুরু করে। অযোধ্যার এই হিন্দু মন্দির থেকে অনুদান চুরির অভিযোগে এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ চুরির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ প্রকাশ না করলেও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এর পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি রুপি বা ৩ লাখ ১৪ হাজার মার্কিন ডলার।
আস্থার সংকট ও পুরোনো কেলেঙ্কারি
দিল্লির অটোচালক অশোক প্রসাদ কুশওয়াহা জানান, ভক্তরা বিশ্বাস নিয়ে ঈশ্বরের কাজের জন্য তাদের কষ্টার্জিত অর্থ দান করেন। সেখান থেকে চুরি হওয়াটা ব্যক্তিগত ক্ষতির মতো। ভারতের বড় তীর্থস্থানগুলোতে অনুদান নিয়ে এমন কেলেঙ্কারি এবারই প্রথম নয়, এর আগে বদ্রীনাথ মন্দির এবং ৩১ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ থাকা বিশ্বের অন্যতম ধনী ‘তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানম’ ট্রাস্টেও এমন কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে।
কেরালার সাবরিমলা মন্দিরের সাবেক প্রধান পুরোহিতের নাতি ও হিন্দু সংগঠক রাহুল ঈশ্বর বলেন, ‘মূল সমস্যা হলো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব।’
তিনি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে ডিজিটাল হিসাব, সিসিটিভি নজরদারি এবং স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান। রামমন্দিরে গণনা প্রক্রিয়ার দুর্বলতা ও নজরদারির গাফিলতিকে কাজে লাগিয়েই এই চুরি করা হয়েছে।
বিতর্কিত ইতিহাস ও বিশাল অনুদান
২০২৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই রামমন্দির উদ্বোধন করেন। বর্তমানে এখানে প্রতিদিন গড়ে ৯০ হাজার দর্শনার্থী আসেন এবং নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও রুপার গয়না দান করেন।
এই চুরির ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। কারণ, মন্দিরটি ভারতের দীর্ঘদিনের এক ধর্মীয় বিরোধপূর্ণ জায়গায় নির্মিত হয়েছে। ১৯৯২ সালে সেখানে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর দেশব্যাপী সহিংসতায় ২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হন। ২০১৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে জমিটি মন্দির নির্মাণের জন্য দেওয়া হয়। এরপর দেশব্যাপী তহবিল সংগ্রহ অভিযানে প্রায় ৩৪ কোটি ১০ লাখ (৩৪১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার জমা হয়।
আইনি কাঠামো ও ধর্মীয় বাজার
আইএমএআরসি কনসালটেন্সি ফার্মের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক বাজারের মূল্য ছিল ৭০ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার। ২০৩৪ সালের মধ্যে তা ১৩৫ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য কোনো একক জাতীয় আইনি কাঠামো নেই। বিভিন্ন কর ও আইনের কারণে রাজ্যভেদে এর তদারকিতে ভিন্নতা দেখা যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অনুরাগ নাইডু বলেন, বর্তমানের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রথাগত উপাসনালয়ের চেয়ে অনেক বড় হয়ে উঠেছে। তাই এগুলোতে বড় পাবলিক প্রতিষ্ঠানের মতো কঠোর আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীন নজরদারি ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।
সূত্র: ফ্রান্স ২৪
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


