জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করল ককরোচ জনতা পার্টি

জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করল ককরোচ জনতা পার্টি
ছবি: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া

সংগঠনের কার্যক্রম দেশজুড়ে সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

বৃহস্পতিবার ঘোষিত এই কমিটিতে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকেকে জাতীয় আহ্বায়ক করা হয়েছে। প্রধান মুখপাত্র ২৭ বছর বয়সী সৌরভ দাস এবং মুখপাত্র ৩০ বছর বয়সী আশুতোষ রাঙ্কাকে করা হয়েছে যুগ্ম আহ্বায়ক।

বিজ্ঞাপন

শহরে অভিজিৎ দীপকের বাসভবনে কোর টিমের দুই দিনের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন কমিটির ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় সংগঠনের নেতারা জানান, আপাতত সিজেপিকে রাজনৈতিক দলে রূপান্তর করা হবে না। এর পরিবর্তে তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করাই হবে তাদের প্রধান লক্ষ্য।

পরে এক বিবৃতিতে জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটির দায়িত্বশীলদের নাম প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, সংগঠনের রোডম্যাপ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রথম জাতীয় নেতৃত্বের তালিকা অনুমোদন করেছে জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটি। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে স্টেট কো-অর্ডিনেশন কমিটি, পাশাপাশি লোকসভা ও শহরভিত্তিক সমন্বয় ইউনিট গঠন করা হবে। এদিন ঘোষিত তালিকার বাইরে অন্য কাউকে সংগঠনের পদধারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

নতুন কমিটিতে ৩৫ বছর বয়সী অজিঙ্ক্য শিন্দেকে জাতীয় সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং ২৬ বছর বয়সী দীপক বালিয়ানকে সাংগঠনিক সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৩৪ বছর বয়সী আফরিন নওয়াজকে জাতীয় সম্পাদক, ৩০ বছর বয়সী বিজয় রেড্ডি মাল্লাঙ্গিকে মিডিয়া প্রধান, ৩১ বছর বয়সী রত্না সিংকে আইনবিষয়ক প্রধান, ২৯ বছর বয়সী বৈষ্ণবী গৌরকে গবেষণা ও নীতিমালা প্রধান, ৩১ বছর বয়সী রোহান দেশপান্ডেকে প্রযুক্তি প্রধান এবং ৩৩ বছর বয়সী যোগেশ ইংগালেকে অর্থবিষয়ক প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব এবং পশ্চিম—এই পাঁচটি অঞ্চলের নেতৃত্বের দায়িত্বও নির্ধারণ করেছে সিজেপি।

সংবাদ সম্মেলনে সৌরভ দাস বলেন, সংগঠনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী ও শ্রমজীবীরা এতে যুক্ত হয়ে সম্মিলিতভাবে নিজেদের কণ্ঠ তুলে ধরতে পারবেন।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সংগঠন কোনো ধরনের তহবিল সংগ্রহ করছে না। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সৌরভ দাস বলেন, অনেকেই সিজেপিকে রাজনৈতিক দলে রূপান্তরের দাবি জানাচ্ছেন। কিন্তু এই মুহূর্তে আরেকটি রাজনৈতিক দল গঠনকে তিনি কার্যকর মনে করেন না।

তার ভাষ্য, তৃণমূল পর্যায়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির মাধ্যমেই পরিবর্তন আনা সম্ভব। তাই আপাতত সংগঠনটিকে রাজনৈতিক দলে রূপান্তরের কোনো পরিকল্পনা নেই।

আশুতোষ রাঙ্কা জানান, সিজেপির একটি প্রতিনিধিদল শিগগিরই ঝাড়খন্ডে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করবে। পরে সংগঠনের শীর্ষ নেতারাও সেখানে সফর করবেন।

নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ঝাড়খন্ডে চলমান আন্দোলন বৃহস্পতিবার ১৩তম দিনে গড়ায়। এ সময় ছয়জন আন্দোলনকারী অনশন কর্মসূচি পালন করছিলেন।

গত মাসে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে সিজেপির নেতৃত্বে আন্দোলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনটির দাবি, ওই আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন