ভারতের নয়াদিলিল্লিতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কয়েক দিন ধরে চলা আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে টিয়ার গ্যাস, লাঠিচার্জ এবং পুলিশি বলপ্রয়োগের অভিযোগে দিল্লির হাই কোর্টে একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে, পুলিশ আন্দোলনে জড়িত অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১০টি এফআইআর দায়ের করেছে বলে জানা গেছে। শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রযন্ত্রের চরম নৃশংসতার এই অভিযোগগুলো এখন আদালতে পৌঁছেছে।
ফ্রান্স২৪ এর সাংবাদিক সারাহ জ্যাকব বলেছেন, প্রতিবাদের তীব্রতা বুঝতে তিনি অনেক দেরি করে ফেলেছেন নরেন্দ্র মোদি। তবে তিনি তার নীরবতা ভেঙে পদক্ষেপ নিয়েছেন যে প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে জড়িতদের বিচারের জন্য ফাস্টট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে।
প্রতিবেদনে কিছু বিক্ষোভকারী জানান, শিক্ষামন্ত্রী অবিলম্বে পদত্যাগ চায় ছাত্রছাত্রীরা। বৃহত্তর দাবি হলো, এই ব্যবস্থার অদক্ষতা এবং সমস্যাগুলো দূর করা হোক, যা সমাজের সব স্তরের ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার সুযোগ দেয় না, বিশেষ করে সমাজের সেইসব অংশ থেকে যারা ভালো শিক্ষা কেনার সামর্থ্য রাখে না। উদ্দেশ্যটা বেশ সহজ এবং সরল। এটা ছাত্রছাত্রীদের জন্য। আর কিছু নেই, অন্য কোনো গোপন উদ্দেশ্য নেই। এরা সবাই ছাত্রছাত্রী। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ, যার মাধ্যমে আমাদের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পরে পুলিশ এই আন্দোলনে দমনে নিরাপরাধ শিক্ষার্থদের ওপর ব্যপক আকারে নির্যাতন চালায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশি নির্যাতনের নানা ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার এবং সাদা পোশাকের কর্মকর্তাদের লাঠি দিয়ে বিক্ষোভকারীদের আঘাত করার উঠে এসেছে।
দিল্লি হাইকোর্টে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশ বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের ওপর শারিরীক নির্যাতন চালিয়েছে। আবেদনে বলা হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ পুলিশ বাহিনীর এই আচরণ নিছক কোনো ব্যক্তিগত বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত দমনপীড়ন। কেননা, পুলিশ সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অধীনে কাজ করে, যিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পর ভারতের দ্বিতীয় ক্ষমতাধর রাজনীতিবিদ।
এদিকে, যন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে জবাবদিহি এবং পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে।
সূত্র: ফ্রান্স২৪।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


