মোদির শাসনামল: মুসলিমবিরোধী রাজনীতিই বিজেপির মূল হাতিয়ার

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

মোদির শাসনামল: মুসলিমবিরোধী রাজনীতিই বিজেপির মূল হাতিয়ার

ভারতের রাজনৈতিক পরিসরে গত এক দশকে এক গভীর পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বহুত্ববাদ ও সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে পেছনে ফেলে ধর্মীয় মেরুকরণকেই রাজনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রে আনার অভিযোগ উঠেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে।

বিজ্ঞাপন

কেরালার অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসা এক লেখক এই প্রেক্ষাপটে ঐতিহাসিক বাস্তবতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। স্বাধীনতার আগে কেরালার একমাত্র মুসলিম-অধ্যুষিত জেলায় একটি নম্বূদিরি জমিদার পরিবারে জন্ম ও বেড়ে ওঠা তার। সে সময় ‘অস্পৃশ্যতা’র পাশাপাশি ‘অনুপস্থিতিযোগ্যতা’ বা ‘অপ্রোচেবিলিটি’-র মতো নির্মম প্রথাও প্রচলিত ছিল। উচ্চবর্ণ হিন্দুদের কাছে তথাকথিত ‘নিম্নবর্ণ’ হিন্দুরা নির্দিষ্ট দূরত্বে না থাকলে ‘দূষিত’ হওয়ার ধারণা চালু ছিল ওবিসি এঝাভাদের জন্য ৩০ ফুট, দলিতদের জন্য ৬০ ফুট এবং অনগ্রসর আদিবাসীদের জন্য ১০০ ফুট দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম ছিল। সামন্ততান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা সংবিধান প্রণয়নের আগ পর্যন্ত এই বৈষম্যমূলক রীতি কঠোরভাবে চাপিয়ে রেখেছিল।

তবে বিস্ময়করভাবে, মুসলিম ও খ্রিস্টানদের ক্ষেত্রে এমন কোনো বিধিনিষেধ ছিল না। তারা উচ্চবর্ণ হিন্দুদের কাছে গেলে ‘দূষণ’ হবে এমন ধারণা প্রচলিত ছিল না। অর্থাৎ, হিন্দু সমাজের ভেতরে কঠোর বর্ণবাদ থাকলেও অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি এক ধরনের সামাজিক সহাবস্থান বা সমন্বয়ের মনোভাব দেখা যেত।

কেরালার সংস্কৃতিতে এই বহুত্ববাদের একাধিক উদাহরণ রয়েছে। শবরিমালা মন্দিরের সঙ্গে জড়িত মুসলিম সহযোগী বাবরের নামে মসজিদে আজও বহু হিন্দু ভক্ত যান। আবার ১৪শ শতকে নির্মিত কোরাট্টি মুথি গির্জা স্থানীয় রাজার দান করা জমিতে গড়ে উঠেছিল এবং স্থাপত্যে বহু হিন্দু বৈশিষ্ট্য বহন করে। এ ধরনের উদাহরণ কেরালার সামাজিক মনস্তত্ত্বে এক অনন্য সহাবস্থানের চিত্র তুলে ধরে।

এই বহুত্ববাদী পটভূমি থেকে আসা মানুষের কাছে সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক প্রবণতা বেদনাদায়ক বলেই মনে হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, গত ১১ বছরে ধর্মীয় ‘অন্যীকরণ’ বা কমিউনাল মেরুকরণকে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। মুসলিম সম্প্রদায়কে আলাদা করে চিহ্নিত করা এবং সামাজিকভাবে ‘গেটোয়াইজেশন’-এর মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ক গড়ে তোলাই নাকি এই কৌশলের মূল লক্ষ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা শুধু নির্বাচনি রাজনীতিকেই প্রভাবিত করছে না, বরং ভারতের দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের ওপরও প্রভাব ফেলছে। বহুত্ববাদী ঐতিহ্য ও সংবিধানসম্মত সমতার চেতনার সঙ্গে ধর্মভিত্তিক মেরুকরণের এই টানাপোড়েন আগামী দিনে ভারতের গণতন্ত্রের জন্য কতটা তাৎপর্যপূর্ণ হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

সূত্র: দ্য ওয়্যার

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন