আমি ডিগ্রির কাগজ দেখাব, মোদি কি দেখাবেন, চ্যালেঞ্জ ককরোচ প্রধানের

আমি ডিগ্রির কাগজ দেখাব, মোদি কি দেখাবেন, চ্যালেঞ্জ ককরোচ প্রধানের
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (বামে) এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দীপকে (ডানে)।

নিজের বৃত্তি ও শিক্ষা ঋণের নথি প্রকাশের ঘোষণা দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শিক্ষাগত ডিগ্রি প্রকাশের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দীপকে। সোমবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ চ্যালেঞ্জ জানান। সুরাটের তথ্য অধিকার (আরটিআই) কর্মী অমিত তিওয়ারি দিপকের পারিবারিক অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে তদন্তের দাবি জানানোর পরই তিনি এই প্রতিক্রিয়া জানান।

বিজ্ঞাপন

আরটিআই কর্মী অমিত তিওয়ারি দীপকের পরিবারের আর্থিক বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে অভিযোগ করেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, দীপকের বাবা ভগবানরাও দীপকে—মহারাষ্ট্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের (এমআইডিসি) অবসরপ্রাপ্ত জুনিয়র প্রকৌশলী—কীভাবে ছেলের বিদেশে উচ্চশিক্ষার খরচ যোগালেন, তা তদন্ত হওয়া উচিত।

অভিযোগের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা ভিডিওতে দীপকে বলেন, তিনি তার বৃত্তির চিঠি ও শিক্ষা ঋণের নথি প্রকাশ করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘আমি আমার বৃত্তির চিঠি ও শিক্ষা ঋণের নথি দেখাতে প্রস্তুত। সম্রাট কি তার ডিগ্রি দেখাবেন?’

ভিডিওতে হিন্দিতে তিনি বলেন, ‘সবাইকে হ্যালো, আমি এইমাত্র দেখলাম যে বিজেপির একজন কর্মী আমার বিরুদ্ধে আরটিআই দাখিল করেছেন এবং তিনি জানতে চান আমি কীভাবে আমার শিক্ষা সম্পন্ন করেছি। তাই আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করতে চাই, আপনাদের নেতা কি তার ডিগ্রি দেখাবেন? আমি আমার বৃত্তির চিঠি ও শিক্ষা ঋণের চিঠি দেখাতে প্রস্তুত। আপনাদের নেতা কি তার আসল ডিগ্রি দেখাবেন?

তিনি আরও বলেন, ‘আর আমি বুঝি না তাদের শিক্ষা নিয়ে সমস্যা কোথায়? একজন সাধারণ ছেলে যদি বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে থাকে, তাহলে আপনাদের সমস্যা কী? আপনারা শিক্ষার এত বিরোধী কেন?’

তিনি আরও বলেন, তার শিক্ষাজীবন নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরিবর্তে শিক্ষার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত।

মোদির ডিগ্রি নিয়ে ফের বিতর্ক

দীপকের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিতর্কের সূত্র ধরে ফের সামনে এসেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডিগ্রি সংক্রান্ত পুরোনো রাজনৈতিক বিতর্ক।

২০১৬ সালের মে মাসে তৎকালীন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ ও তৎকালীন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে মোদির দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (বিএ) ও গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর (এমএ) ডিগ্রির অনুলিপি প্রদর্শন করেছিলেন। তারা জানান, মোদি ১৯৭৮ সালে বহিরাগত ছাত্র হিসেবে বিএ এবং ১৯৮৩ সালে এমএ সম্পন্ন করেছিলেন।

বিরোধী দল ও সমালোচকরা এই ডিগ্রিগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন, অন্যদিকে সরকার মোদির স্নাতক সনদ প্রকাশের আরটিআই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে।

বিজেপি প্রকাশিত নম্বরপত্র অনুযায়ী, মোদি দুইবার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পত্রালাপ কোর্সের মাধ্যমে তৃতীয় বিভাগে বিএ (পাস) ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন।

সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

এমএমআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন