সৌদি-ইয়েমেন সংলাপে সহায়তা করার প্রস্তাব দিল ইরান

সৌদি-ইয়েমেন সংলাপে সহায়তা করার প্রস্তাব দিল ইরান
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাদশা খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরান–সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর হামলার পর ধোঁয়া ও আগুনের কুণ্ডলী দেখা যায়। ছবি: রয়টার্স

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ শুরু এবং রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।

বিজ্ঞাপন

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, রাজনৈতিক সমাধান উপেক্ষা করে সামরিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করলে আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরো জটিল হবে। সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পর তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন।

সৌদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রোববার টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি বলেন, এ অঞ্চলের সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। রাজনৈতিক সমাধানের পথ উপেক্ষা করে সামরিক পদক্ষেপের ওপর জোর দিলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠবে।

তিনি বলেন, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে সংলাপ শুরু করতে এবং রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে প্রয়োজনীয় যেকোনো সহায়তা দিতে ইরান প্রস্তুত।

এর আগে গত সপ্তাহেও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রসঙ্গে সামরিক সমাধানের বিরোধিতা করেন আরাগচি। তিনি বলেছিলেন, ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে আলোচনা ছাড়া এ সংঘাতের অবসান সম্ভব নয়।

সৌদি বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা পুনর্বিবেচনার কথা বলেছেন। হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০০ জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্প একই সঙ্গে ইরানে আবার হামলা শুরু করা হবে কি না, তা বিবেচনা করছেন বলেও জানান।

ট্রাম্পের এ বক্তব্য তার বৃহস্পতিবারের অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়। ওইদিন তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে আবার হামলা চালানো হবে না।

দীর্ঘদিনের বিরোধ সত্ত্বেও ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক টিকে আছে। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তির পর দুই দেশ আবার দূতাবাস চালু করে। এর আগে সাত বছর ধরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন ছিল। ওই বিরতির সময়ে আঞ্চলিক বিভিন্ন সংঘাতে দুই দেশের সমর্থিত পক্ষগুলোর মধ্যে সংঘাত বেড়েছিল।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর তেহরান ও রিয়াদের সম্পর্কে অবনতি ঘটে। এরপর ইরান এবং দেশটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রও এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল।

২০২৬ সালের মার্চে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল সতর্ক করে বলেছিলেন, সৌদি আরব ও প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলা সহ্য করার সুযোগ সীমিত। তিনি তেহরানকে নিজেদের কৌশল পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন