অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয়স্থল একটি স্কুলের কাছে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। সোমবার (৬ এপ্রিল) সংঘটিত এ হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ডেইলি সাবাহ।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি উপেক্ষা করেই সর্বশেষ এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলার আগে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ইসরাইল সমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ওই স্কুলে ঢুকে কয়েকজনকে অপহরণের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় বাসিন্দাদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষও হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী ও চিকিৎসকেরা।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে গাজার কেন্দ্রীয় অঞ্চলের মাঘাজি শরণার্থী শিবিরের পূর্ব দিকে ইসরাইলি ড্রোন থেকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঘনবসতিপূর্ণ ওই এলাকায় অধিকাংশই বাস্তুচ্যুত মানুষ থাকায় নিহতদের মধ্যে কতজন সাধারণ নাগরিক রয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী আহমেদ আল-মাঘাজির দাবি, সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা এলাকায় হামলা চালালে বাসিন্দারা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তখনই ইসরাইলি বাহিনী সরাসরি হামলা চালায়।
অন্যদিকে, সোমবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ওই গোষ্ঠীর এক নেতা দাবি করেন, তারা হামাসের অন্তত পাঁচ সদস্যকে হত্যা করেছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ২০০৭ সাল থেকে গাজা শাসনকারী হামাস ও ইসরাইল—উভয় পক্ষই ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য একে অপরকে দায়ী করে আসছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭১৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৯৪০ জন আহত হয়েছেন।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

