বজ্রপাত রোধে আনসার-ভিডিপি উদ্যোগ

দিনাজপুরে ৩০ হাজার তালবীজ রোপণ

দিনাজপুরে ৩০ হাজার তালবীজ রোপণ
তালবীজ রোপণ। ছবি: আমার দেশ

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, পরিবেশগত উন্নয়ন এবং বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি রোধের লক্ষ্যে দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় দুই বছরে ৩০ হাজার তালবীজ রোপণ ও পরিচর্যার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। গত বছর জেলায় ১৩ হাজার তালবীজ রোপণ করা হয়েছিল।

গ্রামবাংলার সৌন্দর্য বৃদ্ধি, পাখির আবাসন নিশ্চিতকরণ এবং সুস্বাদু ফলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি প্রাকৃতিক বজ্রনিরোধক হিসেবে তালগাছের ভূমিকা অপরিসীম।

বিজ্ঞাপন

এ বছর জেলার নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট ও বীরগঞ্জ উপজেলায় একযোগে ৮০০ তালবীজ রোপণ করে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন আনসার ও ভিডিপি দিনাজপুর জেলা কমান্ড্যান্ট মো. নুরুজ্জামান।

পর্যায়ক্রমে জেলার সবকটি উপজেলায় তালবীজ রোপণ করা হবে। জেলায় এ বছর ১৭ হাজার তালবীজ রোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। গত বছরের ১৩ হাজারসহ সর্বমোট ৩০ হাজার তালবীজ রোপণ সম্পন্ন করা হবে।

রোপণ করা এসব তালবীজের সার্বিক পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করবেন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা।

জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের দলনেতা ফয়সাল কবির বলেন, ‘উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের মাধ্যমে তালগাছ রোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচি প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এ কারণে ইউনিয়নের বিভিন্ন রাস্তার পাশে তালগাছ রোপণ করেছি।’

বিরল উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের দলনেতা মোছা. শারমিন আক্তার জানান, আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমরা পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর গ্রামসংলগ্ন সড়কে ২৫০টি তালবীজ রোপণ করেছি, যা এখানকার পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

বিরল উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আবদার মোল্লা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় এবং বজ্রপাতজনিত দুর্ঘটনা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষায় বিরল উপজেলার বিভিন্ন সড়কের দুপাশে পরিকল্পিতভাবে সর্বমোট ১ হাজার ৫০০ তালবীজ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম ধাপে বিরল উপজেলার ১০ নম্বর রাণীপুকুর ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামসংলগ্ন সড়ক এবং

১১ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর গ্রামসংলগ্ন সড়কে প্রথম দফায় ৫০০ তালবীজ রোপণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ইউনিয়নেও তালবীজ রোপণ করা হবে। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পরিবেশ সুরক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে নবাবগঞ্জের খয়েরগুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সরাসরি এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ কবির জানান, শিশুরা আগামীর বাংলাদেশের কান্ডারি। তাদের সঙ্গে নিয়ে এ ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্থানীয়দের মাঝেও বৃক্ষরোপণের তাগিদ তৈরি করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি দিনাজপুর জেলা কমান্ড্যান্ট নুরুজ্জামান জানান, পরিবেশ সংরক্ষণের এ ধারা অব্যাহত রাখতে এ বছর জেলায় ১৭ হাজার তালবীজ রোপণ করা হবে। গত বছর জেলায় বাহিনীর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ১৩ হাজার তালবীজ রোপণ করা হয়েছিল। শুধু বীজ রোপণ নয়, বীজ থেকে অঙ্কুরিত চারাগুলো এনটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

এই উদ্যোগ দিনাজপুর জেলার সামগ্রিক পরিবেশগত চিত্র বদলে দিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

তিনি আরো জানান, দিনাজপুর জেলার কয়েকটি উপজেলায় খাল খনন করা হচ্ছে। এসব খাল খনন সম্পন্ন হলে খালের পাড়ে তালবীজ রোপণ করা হবে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি পাখিদের আবাসস্থল বিশেষ করে বাবুই পাখির আবাসস্থল তৈরি হবে। এ উদ্যোগ সফল করতে তিনি সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন