যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার উদ্যোগ, ইরান সফরে যাচ্ছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার উদ্যোগ, ইরান সফরে যাচ্ছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার উদ্যোগ জোরদার করতে চায় রাশিয়া। এ লক্ষ্যে সোমবার ইরান সফরে যাচ্ছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লেভরফ। ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই হবে তার প্রথম তেহরান সফর।

বিজ্ঞাপন

রোববার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই এ সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সফরে দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। খবর এএফপির।

সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠক করবেন লেভরফ। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, মস্কোর প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য হলো বড় ধরনের যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা।

এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে। এর আগে অক্টোবরের শুরুতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে জানিয়েছিলেন, সংকট নিরসনে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত মস্কো।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে থাকা রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর দুই দেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি এবং জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের বলে দাবি করে আসছে ইরান। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে বিশ্বের মোট হাইড্রোকার্বন সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের অনুমতি ছাড়া চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নিয়মিত লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লেভরফের সফরে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার কারণে সৃষ্ট গুরুতর আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনের উপায় নিয়ে আলোচনা হবে। মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধ শুধু নিকটপ্রাচ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের জন্যই নয়, বরং বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

এমএমআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন