রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় রাশিয়াকে ধরে রাখতেই এ সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধে অনাগ্রহের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের কয়েক দিন আগে রাশিয়ার ওপর বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি এ বক্তব্য দেন।
ট্রাম্প লেখেন, ‘রাশিয়ার বিষয়ে আমার সিদ্ধান্ত খুবই সহজ। রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে আমি আলোচনা চালাচ্ছি। এমন কিছু করতে চাই না, যাতে বোকামি করে রাশিয়াকে আলোচনার টেবিল থেকে দূরে ঠেলে দেওয়া হয়।’
এ সিদ্ধান্ত ঘিরে গত এক সপ্তাহে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বেড়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার হামলা শুরু করে রাশিয়া। দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের ক্ষতি করবে বলে মন্তব্য করেছেন জেলেনস্কি।
রোববার এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করলে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা বাড়বে।
জেলেনস্কি বলেন, ‘আমার সঙ্গে পুতিনের তুলনা করা যায় না। তিনি আগ্রাসী। তিনি আমাদের ভূখণ্ড দখল করেছেন। তার সেনারা প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের হত্যা করেছেন। তিনি একজন সন্ত্রাসী। তাই আশা করি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেবেন।’
জবাবে ট্রাম্প আবারও দাবি করেন, জেলেনস্কি নিজ দেশের যুদ্ধের অবসান চান না।
তার অভিযোগ, ইউক্রেন রাশিয়ার ডিজেল শোধনাগারে হামলা চালাচ্ছে। এতে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জেনেও কিয়েভ এসব হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ট্রাম্প লেখেন, ‘জেলেনস্কির এতে কিছু যায়-আসে না। ইউরোপ যে তাকে বিপুল অর্থ দিচ্ছে, তা সত্ত্বেও তিনি এ যুদ্ধ শেষ করতে চান না। সম্ভবত তিনি কখনোই তা চাননি।’
গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাশিয়া থেকে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে সরবরাহ করা হবে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানির দাম বেড়ে যায়। ওই যুদ্ধের জেরে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।
রাশিয়ার জ্বালানি খাতের সঙ্গে ট্রাম্পের এই সমঝোতা ইউক্রেনের পাশাপাশি ইউরোপের মিত্রদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্মকর্তার ক্ষোভের কারণ হয়েছে। তাদের মতে, ইউক্রেনে রাশিয়ার সাড়ে চার বছরের যুদ্ধ চলার মধ্যেই মস্কোকে এভাবে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে ইউক্রেন
এদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে ইউক্রেন। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিদল পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে প্রায় নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে।
জেলেনস্কি লেখেন, ‘এটি বাস্তবায়নে আমরা আমাদের দিক থেকে সবকিছু করছি। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান যেন শক্তিশালী থাকে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে, তা নিশ্চিত করতেও কাজ করছি। গত সাড়ে চার বছর ধরে রাশিয়া ছাড়া সবাই যে শান্তির অপেক্ষায় আছে।’
জেলেনস্কির সঙ্গে এই আলোচনা এমন সময়ে হলো, যখন রাশিয়া ও ইউক্রেন পরস্পরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা অব্যাহত রেখেছে। রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের হাজারো মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

