ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে আগামী সপ্তাহগুলোতে দেশটির তেল উৎপাদন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, তেহরানের অর্থনীতি এখনই মুখ থুবড়ে পড়বে-এমন দাবিকে ‘অপরিণত’ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের শুরু থেকে ইরান কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় গত ১২ এপ্রিল থেকে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে দেশটির বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত শান্তি আলোচনায় ইরানকে সমঝোতায় বাধ্য করতেই ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, নৌ-অবরোধের মুখে ইরান আর্থিকভাবে ভেঙে পড়ছে। তবে তেহরানের শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাঈদ লায়লাজ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, এই অবরোধ দুই বা তিন মাসের বেশি স্থায়ী হলে ইরানের ক্ষতি হতে পারে। তবে ইরানের চেয়ে পারস্য উপসাগরের দক্ষিণের দেশগুলোর ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিতভাবে বেশি হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবরোধের কারণে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল খার্গ আইল্যান্ডে তেলের মজুদ পূর্ণ হয়ে যেতে পারে।
কেইপলারের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রভাবে ইরানের অপরিশোধিত তেল উৎপাদন ইতোমধ্যে দৈনিক প্রায় ২ লাখ ব্যারেল কমেছে এবং এপ্রিলে তা আরো ৪ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল কমতে পারে।
তবে মিডল ইস্ট ইকোনমিক সার্ভে (এমইইএস)-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জেমি ইনগ্রাম বলেন, ইরান এর আগেও দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও টিকে থাকার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। এখনই তারা বড় কোনো আপস করবে এমন সম্ভাবনা কম।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলী ভায়েজ জানান, ইরানের সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়লেও দেশটির নেতৃত্ব অতীতে চরম অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করার ক্ষমতা দেখিয়েছে। মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হওয়ায় ইরানও এটিকে পাল্টা চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরাইল
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

