ইরানে ওষুধের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে বহু রোগী প্রয়োজনীয় ওষুধ সংগ্রহে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা উৎপাদন ও সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতে অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্লিডিনিয়াম-সি, কিছু অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যাসেন্ট্রা এবং এস্ট্রাডিওল ভ্যালেরেটসহ বিভিন্ন ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। যদিও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এখনো ওষুধের বাজারে বড় ধরনের সংকটের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
ইরনার তথ্যমতে, কিছু বন্ধ্যত্ব চিকিৎসা ও অন্যান্য রোগে ব্যবহৃত এস্ট্রাডিওল ভ্যালেরেট ২ মিলিগ্রামের তিনটি শিটের সরকারি দাম বিমা ও ফার্মেসি ফিসহ প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার রিয়াল, যা প্রায় ৪৭ সেন্টের সমান। কিন্তু সংকটের কারণে কালোবাজারে একই ওষুধ ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ রিয়াল পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, যার মূল্য প্রায় ২ দশমিক ৮০ থেকে ৯ দশমিক ৪০ ডলার।
তেহরানে আইভিএফ চিকিৎসা নেওয়া এক নারী ইরনাকে জানান, তিনি শহরের বিভিন্ন ফার্মেসিতে সাত ঘণ্টার বেশি সময় খোঁজাখুঁজি করে মাত্র তিনটি শিট ওষুধ পেয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘সরকার সন্তান জন্মদানে উৎসাহ দেয়, অথচ সাধারণ আইভিএফ ওষুধই পাওয়া যাচ্ছে না।’
ইরনা জানিয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, কাঁচামাল আমদানি, জ্বালানি ব্যয়, তারল্য সংকট এবং বিমা খাতে অর্থের ঘাটতির কারণে ওষুধ উৎপাদন ও মূল্য নির্ধারণ ব্যাহত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কিছু ওষুধের দাম বিমা ব্যবস্থায় হালনাগাদ হওয়ার আগেই বাড়ানো হয়েছে। ফলে রোগীদের বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে।
এক জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্যবীমা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক কিছু মূল্যবৃদ্ধির তথ্য আগেভাগে বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জানানো হয়নি, যা রোগীদের জন্য নতুন সমস্যার সৃষ্টি করেছে।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


